রফতানীকৃত পণ্যের বিপরীতে যে পরিমাণ আয় দেশে আসার কথা তা আসছে না। ব্যাপক ব্যবধান থেকে যাচ্ছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রফতানি পরিসংখ্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের রফতানি আয়ের তথ্যে। প্রতিষ্ঠান দুটির প্রায় তিন বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এ সময় রফতানীকৃত পণ্যের বিপরীতে অপ্রত্যাবাসিত অর্থের পরিমাণ ক্রমেই বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কভিডের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ক্রেতা ও রফতানিকারকের বাণিজ্য বিরোধের অনেক ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে রফতানির বিপরীতে মূল্য হ্রাসের ঘটনাও বেড়েছে। আবার ঋণপত্রের বিপরীতে অর্থ পরিশোধের সময়সীমাও বেড়ে গিয়েছে। এ সবকিছুরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রফতানির বিপরীতে প্রত্যাবাসিত অর্থের পরিসংখ্যানে।
নিয়মিতভাবেই রফতানির উদ্দেশ্যে জাহাজীকৃত পণ্যের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ইপিবি। আর সে রফতানির বিপরীতে আয় প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাণিজ্যসংশ্লিষ্ট ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্য বিরোধের প্রেক্ষাপটে মূল্য হ্রাসের কারণে এ দুই পরিসংখ্যানে পার্থক্য থাকতেই পারে। সেক্ষেত্রে রফতানির বিপরীতে প্রত্যাবাসিত অর্থের পরিমাণও কম হতে পারে। তবে তা কোনোভাবেই ১০ শতাংশের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। আবার অর্থ পরিশোধের সময়সীমাও বাড়তে পারে। তবে তা নির্ধারিত সময়ে সমন্বয় হয়ে যায়। সব মিলিয়ে রফতানির বিপরীতে অর্থ প্রাপ্তির পার্থক্য খুব বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। তবে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ক্রেতা ও রফতানিকারকদের যোগসাজশে অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটতে পারে। সবকিছুর প্রভাবে পণ্য রফতানি ও প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য বেড়েই চলেছে। ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অনুযায়ী তিন বছরে রফতানির বিপরীতে অপ্রত্যাবাসিত বা অপ্রাপ্ত অর্থের হার ১৩ শতাংশেরও বেশি।
ইপিবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ডলারের। যদিও অর্থ এসেছে ২ হাজার ৯৯৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে রফতানিতে অপ্রত্যাবাসিত অর্থ রয়ে গিয়েছে ১১ শতাংশের বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৫ কোটি ডলারের পণ্য। এর বিপরীতে এসেছে ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি ডলার। এ হিসাবে রফতানি ও প্রত্যাবাসিত অর্থের পার্থক্য ১২ শতাংশের বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রফতানি হয়েছে ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের পণ্য। এর বিপরীতে এসেছে ৩ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। এ হিসাবে রফতানি ও প্রত্যাবাসিত অর্থের পার্থক্য ১৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থবছরের হিসাবে রফতানি হওয়া পণ্য ও সেগুলোর বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ হলো রফতানি করার পরও অনেক সময় দেখা গেছে ক্রেতা ডিসকাউন্ট দিয়েছে। বিধান আছে ১০ শতাংশের বেশি ডিসকাউন্ট করা যাবে না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় রফতানিকারকদের দরকষাকষির সক্ষমতায় ঘাটতির কারণে ডিসকাউন্টের হার অনেক বেড়ে যায়। দেখা যায় সঠিক সময়ে পণ্য না দেয়ার কারণে, মান যথাযথ না হওয়ার কারণে ক্রেতার পক্ষ থেকে ডিসকাউন্ট চাওয়া হয়েছে। ডিসকাউন্টের একটি অংশ কম্পোনেন্ট। এছাড়া অন্যান্য কারণও রয়েছে। অনেক সময় দেখা গেছে ক্রেতা কোনো না কোনো কারণে পণ্যের চালান গ্রহণই করেনি, অর্থাৎ ডেলিভারি না নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে রফতানি হওয়া পণ্যের বিপরীতে কোনো অর্থই আসেনি।
তিনি আরো বলেন, রফতানিকারকের স্বার্থে ব্যাংকারদের কঠোর ভূমিকাও অনেক সময় পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বলতে হয়, যদি কোনো অর্থ পরিশোধ না হয়, পরবর্তী সময়ে ঋণপত্র খুলতে পারার কথা নয়। সেক্ষেত্রে অনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
ইপিবি সূত্র বলছে, রফতানির তথ্য প্রকাশ করা হয় শুল্ক কর্তৃপক্ষ পর্যায়ের পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে। রফতানি ও রফতানির বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে গরমিল থেকে যাওয়ার বেশকিছু কারণ আছে। এর মধ্যে প্রথমেই আছে সময়সীমা।
ইপিবির পরিসংখ্যানগুলো বন্দরে পণ্য জাহাজীকরণ ও শিপমেন্টভিত্তিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ প্রাপ্তির হিসাব অনুযায়ী। অর্থাৎ রফতানি হওয়া পণ্য আমদানিকারকের নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছার পর যে অর্থ পরিশোধ হয়, সেই অর্থ বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রত্যাবাসন হলে সেটিকেই এক্সপোর্ট রিসিপ্ট হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়। এক্ষেত্রে পণ্য শিপমেন্ট ও অর্থ প্রাপ্তির সময়ে পার্থক্যের প্রভাবে প্রাপ্ত অর্থ কম হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া সময়ের পার্থক্য বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শর্তের কারণেও রফতানির বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের গরমিল দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রফতানির বিল অব এন্ট্রিতে ঘোষিত মোট মূল্যের একটি অংশ ক্রেতা চালানের বীমা বাবদ বা পরিবহন খরচ বাবদ কেটে রাখার কথা রয়েছে। এ কারণে যখন অর্থ প্রত্যাবাসন হয় তা একটি নির্ধারিত অংশ বাদ দিয়ে আসে। সব মিলিয়েই রফতানি ও প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে পার্থক্য থেকে যাচ্ছে। এ পার্থক্য কমিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে।
পণ্য রফতানির জাহাজীকরণের তথ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ প্রাপ্তির পরিসংখ্যানগত পার্থক্যের অন্যতম কারণ হিসেবে অসাধু বাণিজ্যিক চর্চা থাকতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পণ্য রফতানি করে অর্থ দেশে না আনার ঘটনা ঘটারও নজির রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যেকোনো দেশ থেকে অর্থ পাচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু তা বাংলাদেশ ব্যাংকের নজর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তার পরও নানা ফাঁকফোকর গলে এমন অসাধু কাজ হয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকের নজরদারি ব্যবস্থাকেও এক্ষেত্রে বিবেচনায় নিতে হবে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে কভিডকালের প্রভাবে রফতানি ও প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য বেড়েছে। পরিসংখ্যানে গরমিলের কারণ যা-ই থাকুক না কেন, পার্থক্যটা কম হওয়া উচিত।
দেশের মোট রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি হয় তৈরি পোশাক। এ খাতের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রফতানিতে ডিসকাউন্টের চর্চাও রফতানি ও প্রাপ্ত অর্থের গরমিলের বড় কারণ। নির্ধারিত পণ্যের সঙ্গে রফতানি হওয়া পণ্যের মানে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে ক্রেতারা ডিসকাউন্টেড মূল্যে পণ্য গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় জাহাজীকরণ হওয়া পণ্যের বিপরীতে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ কম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইপিবি যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে, সেখানে ডিসকাউন্টের কোনো হিসাব থাকে না। তবে প্রাপ্ত অর্থে ডিসকাউন্টের প্রতিফলন দেখা যায়। আবার অনেক সময় মূল ঋণপত্রের বিপরীতে আংশিক রফতানি হয় আমদানিকারকের অনুমতি নিয়ে। এক হাজার পিস পণ্যের ঋণপত্রের রফতানির বিপরীতে রফতানি হয়েছে ৬০০ পিস। কিন্তু বিল অব এন্ট্রির ঘোষণা অনুযায়ী রফতানি হয় এক হাজার পিস হিসেবে। কিন্তু যখন অর্থ পরিশোধ হয় ৬০০ পিসের, স্বাভাবিকভাবেই তা কম হয়।
বিজিএমইএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসএম মান্নান কচি বণিক বার্তাকে বলেন, ইপিবির তথ্য পণ্য রফতানির। আর রফতানির বিপরীতে যে অর্থ দেশে আসে তা পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে। দুটিতে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। আমরা যখন রফতানি করি, তখন অনেক সময় শর্ট শিপমেন্ট বা আংশিক রফতানি হয়। পণ্য অনেক সময় একসঙ্গে পাঠানো হয় না। দেখা যায় এক লাখ পিসের ক্রয়াদেশ, এর মধ্যে ২০ হাজার পিস রফতানি হয়নি। এদিকে ক্রেতারা অনেক সময় পণ্যের মান থেকে শুরু করে নানা কারণে ডিসকাউন্ট চায়। দেখা যায় ১ লাখ ডলারের পণ্য থেকে ডিসকাউন্ট চেয়ে বসে ৩০ বা ২০ শতাংশ। শুল্ক কর্তৃপক্ষ মোট পণ্যের পরিসংখ্যান নিয়ে রিপোর্ট করে। এক্ষেত্রে একটা রিপোর্টিং ভুল হয় বলে আমরা ধারণা করি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে যখন টাকা আসে, আর তা নিয়ে যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পাওয়া যায় সেটাই প্রকৃত ও সঠিক। ইপিবি রফতানি শিপমেন্টের তথ্য দেয়, আয়ের নয়। প্রকৃত আয়ের তথ্য দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
একই ধরনের মত প্রকাশ করা হয়েছে তৈরি পোশাক খাতের নিট পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর পক্ষ থেকে। সংগঠনটির নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি বছর রফতানির পরিসংখ্যানে পার্থক্য থাকে। পরবর্তী সময়ে অর্থ প্রত্যাবাসন হয়। কিছু ক্ষেত্রে সময়মতো ক্রেতা অর্থ পরিশোধ করে না। কিছু ক্ষেত্রে ডিসকাউন্টও হয়, যার পরিমাণ একটা কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন নেয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে কমিটি শতভাগ ডিসকাউন্ট বা ওয়েভার অনুমোদন দেয়ার ঘটনাও আছে। যুক্তিসংগত কারণ থাকলেই ডিসকাউন্ট অনুমোদন দেয়া হয়। তবে পরিমাণটা অনেক বেশি হওয়ার সুযোগ নেই। অর্থাৎ পার্থক্যটা এত বড় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুযোগ যদি থাকে তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, বাকি ডলার গেল কোথায়। যদি ধরে নিই যে একটা অর্থবছরে রফতানি হয়েছে ১২০ কোটি ডলারের। এর ১০ শতাংশের বেশি যদি প্রত্যাবাসন না হয়, তাহলে পরবর্তী সব আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো অনৈতিক চর্চার সুযোগ নেই।
ব্যাংকার ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ডিসকাউন্টের কারণ যা-ই হোক না কেন, পার্থক্য ১০ শতাংশের খুব বেশি হওয়ার সুযোগ সীমিত। আর রফতানি ও প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য কমিয়ে আনার একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে ক্রেতা-বিক্রেতার বিরোধসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বোর্ড অব গভর্নরসের সদস্য সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, রফতানি যখনই হোক তার অর্থ প্রত্যাবাসনের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন। গত প্রায় তিন বছরে কভিড প্রেক্ষাপটে এ সময়সীমায় তারতম্য ঘটেছে, যার প্রভাবে শিপমেন্ট ও প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্য হতে পারে। আবার অনৈতিক কর্মকাণ্ডেও পার্থক্য হতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। ব্যাংকাররা অনেক সময় অর্থ প্রত্যাবাসনে কঠোর ভূমিকা রাখতে পারেন না উদ্যোক্তাদের স্বার্থে। সব মিলিয়ে বর্তমানে যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, সেখানে কভিডের কারণে অর্থ পরিশোধে বিলম্বের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করছি। অসাধু বা অনৈতিক বাণিজ্যচর্চার সুযোগ খুব বেশি নয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অধ্যাপক শাহ মো. আহসান হাবীব বণিক বার্তাকে বলেন, এ পার্থক্যের একটা কারণ হতে পারে পরিসংখ্যানগুলো রেকর্ড হচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। ডিসকাউন্টের কারণেও পার্থক্য হতে পারে, তবে তাতে এত বড় পার্থক্য তৈরি হওয়ার কারণ নেই। রফতানি বাবদ প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ সবসময়ই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দেরিতে আসে। কভিডের সময়ে অর্থ পরিশোধের সময়সীমা অনেক ক্ষেত্রে বাড়ানো হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে প্রাপ্ত অর্থে। প্রত্যাবাসন সক্ষমতা বাড়াতে রফতানিকারকদের চুক্তিগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা জরুরি। সেজন্য দ্রুত এ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদ বা ভিয়েনা কনভেনশনে সই করা প্রয়োজন।










