চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকাটি শ্রমঘন হিসেবে পরিচিত। স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে গড়ে ওঠে ইপিজেড প্রাইম কর্মজীবী সমবায় সমিতি। পরবর্তী সময়ে পরিসর বাড়ানোর জন্য ইসলামিক ট্রাস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড নামে নতুন নিবন্ধন নেন সমিতির পরিচালকরা। সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে সমিতির ছয় পরিচালকের বিরুদ্ধে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্দা নিধন কান্তি দে। স্ত্রী, মেয়ে এবং নিজের নামে ২ শতাংশ সুদহারে ইসলামিক ট্রাস্ট সমবায় সমিতিতে এফডিআর রেখেছিলেন ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া ডিপিএসের মাধ্যমে জমা রেখেছিলেন ৫ লাখ টাকা। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে নিয়ে আরো ২০ লাখ টাকা এফডিআর ও ডিপিএসের মাধ্যমে সমবায় সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। সর্বশেষ ২০২২ সালের ডিসেম্বরে টাকা জমা দিয়েছিলেন নিধন। ফেব্রুয়ারিতে সমবায় সমিতি নিধন দে’কে তার সব টাকা সুদে আসলে ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও জানুয়ারি মাসেই পালিয়ে গেছেন সমিতির পরিচালকরা। এখন টাকা কীভাবে উদ্ধার করবেন সে বিষয় নিয়ে প্রশাসনসহ বিভিন্ন মানুষের দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি।

নিধন কান্তি দে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ছয়জন পরিচালক ২০১৭ সালে ইপিজেড প্রাইম কর্মজীবী সমবায় সমিতি গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়া শুরু করে। পরে সদস্য এবং এনজিওটির পরিসর বাড়ানোর জন্য ইসলামিক ট্রাস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড নামে কার্যক্রম শুরু করে। এলাকার মানুষ কম শিক্ষিত এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এফডিআর কিংবা ডিপিএসের মাধ্যমে টাকা জমানো শুরু করেন গ্রাহকরা। জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে সবাইকে টাকা বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তারা কাউকে টাকা না দিয়ে পালিয়ে গেছে। পরিচালকদের বাড়িতে গিয়েও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

এদিকে পরিচালকদের না পেয়ে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ গ্রাহকের পক্ষে মামলা করেন মো. সোহরব হোসেন (৩৭)। আরো পাঁচজন মিলে একটি মামলা করেছেন আদালতে। সব মিলিয়ে সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৫ কোটি টাকা বেশি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সমিতির পরিচালকদের বিরুদ্ধে।

সমবায় কর্মকর্তা বলছেন, সমিতি যাদের নামে নিবন্ধন করা তারা চাইলেও পদত্যাগ করতে পারেন না। সেক্ষেত্রে সব সদস্য এবং সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া তাদের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন হিসাবসহ সব অর্থ গ্রাহককে বুঝিয়ে দিলে তবেই তারা সম্মতিক্রমে পদত্যাগ করতে পারেন। ইসলামিক ট্রাস্ট বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে যেভাবে দুজন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন এর আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।

সমিতি থেকে পদত্যাগ করা অনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাকে আমির হোসেন গত বছরের ১০ অক্টোবর সমিতি থেকে বের করে দিয়েছে। আমি অনেকবার তার কাছে সমিতির হিসাব চেয়েছি। কিন্তু তিনি মৌখিকভাবে আমাদের কাছে হিসাব দিতেন। কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হতো সে বিষয়ে কোনো তথ্য আমাকে দিতেন না। এখন তিনি পালিয়ে গিয়ে আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছেন। আমার প্রায় ৩৮ লাখ টাকা তার কাছে রয়েছে।’