প্রকৃতিতে পৌষ মাস আসতে এখনো সপ্তাহ খানেক বাকি রয়েছে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী পৌষ-মাঘ শীতকাল হিসেবে ধরা হয়। তবে অগ্রহায়ণের শেষ ভাগে এসে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা দেখা দিয়েছে। টানা তিনদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই অবস্থান করছে হিমালয়ের নিকটবর্তী এ জেলায়। গতকাল সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। সকাল ৯টায় তাপমাত্রা আরো নেমে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে দাঁড়ায়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ, যা শীতের অনুভূতি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
গতকাল বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারদিক। সেই সঙ্গে কনকনে শীত। রাত থেকে টিপ টিপ করে ঝরছে কুয়াশা। ভোর থেকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। রাস্তাঘাটসহ খেতের জমি ভিজে থাকছে। কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় সকালে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
শীতপ্রবণ এ অঞ্চলে এমন তাপমাত্রা নেমে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রস্তুতি বাড়াতে দেখা গেছে। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত শীত নিবারণের চেষ্টায় গরম কাপড় পরে থাকতে দেখা গেছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সকালে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে ছিন্নমূল মানুষদের।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, সপ্তাহজুড়ে জেলায় ১০-১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে তাপমাত্রা। তবে সূর্য উঠলে কুয়াশা কেটে গিয়ে ফিরে আসছে স্বস্তি। চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছে ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে। ডিসেম্বরের বাকি দিনগুলোয় শীতের তীব্রতা আরো বেড়ে গিয়ে তাপমাত্রা কমে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি অথবা শেষের দিকে তাপমাত্রা এক অংকের ঘরে নেমে আসতে পারে। সেই সঙ্গে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। সর্দি-কাশি, জ্বর, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপও বেড়েছে। নদ-নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের শীতবস্ত্রের অভাবও রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘শীত মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০ লাখ টাকার শীতবস্ত্র জেলার পাঁচ উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে।’










