গতকালের এ ঘটনায় গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন করে মারা গেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গাইবান্ধা: বিকালে বজ্রপাতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।
সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মণ্ডল স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানান, গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় ফুয়াদ চৌধুরী, রাফি চৌধুরী ও মিজান মিয়া বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ তাদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। এ ঘটনায় আহত শামীম মিয়া নামে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে মানিক মিয়া দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে গরুর খাবার খড় বাড়ি নেয়ার পথে বজ্রপাতে মারাত্মক আহত হন। তাকে আত্মীয়-স্বজনরা চিকিৎসার জন্য সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান।
এদিকে সাঘাটায় মারা যাওয়া নম্বার আলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন নম্বার আলী। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পরে স্থানীয় মানুষরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঠাকুরগাঁও: পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল। বেলা পৌনে ২টার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান। অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।
সিরাজগঞ্জ: রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকালে আকাশে মেঘ দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জামালপুর: বিকালে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরো চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)। আহতদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির উঠানে অবস্থিত রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড়: আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল পৌনে ৮টার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরো দুই চা-শ্রমিক। তাদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, সকালে চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক।
নাটোর: জেলার সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, সম্রাটসহ কয়েকজন মিলে কেটে রাখা ধান বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধানের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া: জেলার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বিকালে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে। বাড়ির পাশে মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে যান কৃষক সুমন। মাঠে পৌঁছামাত্র বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অপরাজেয় বাংলার সামনে গতকাল বিকালে বজ্রপাতে বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। তারা হলেন সুফিয়া আক্তার (২২) ও ফারাহ আক্তার (২২)। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়।










