নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। বুধবার রাতে ডর্টমুন্ডে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ডাচদের ২-১ গোলে হারায় ইংলিশরা। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোর ফাইনালে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। গতবার ওয়েম্বলি ফাইনালে হ্যারি কেনরা হেরে যান ইতালির কাছে। সেই কষ্ট ভুলে দেশকে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান মুকুট এনে দেয়ার আরেকটি সুযোগ এসেছে। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয় করা থ্রি লায়ন্সরা এরপর আর বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি। এবার কি বার্লিনে ফিরবে ছেষট্টির স্মৃতি?

ডাচদের হারিয়ে রোববারের ফাইনালের টিকিট পেল থ্রি লায়ন্সরা। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ১টায় শুরু হবে ফাইনাল। 

আরেকবার স্বপ্ন জাগাল সাউথগেটের দল। আট বছরের অধ্যায়ে তার অধীনে ইংল্যান্ড ফুটবল দল ২০১৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, ২০২০ ইউরোর ফাইনাল, ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল ও ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে উঠেছে। শান্ত স্বভাবের এই কোচের ওপর ইংলিশদের প্রত্যাশার চাপও ক্রমেই বাড়ছে। হয়তো তার হাত ধরেই ৫৮ বছরের শিরোপার খরা ঘুচবে। 

ডাচদের সঙ্গে দারুণ প্রত্যাবর্তনে জিতেছে ইংল্যান্ড। ডর্টমুন্ড সেমিফাইনালে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার জাভি সিমন্সের বজ্রাঘাতের মতোই এক শক্তিশালী শটে বল ইংল্যান্ডের জালে জড়িয়ে যায়। এতটা দ্রুতই ম্যাচে পিছিয়ে পড়ায় হতবিহ্বল হয়ে পড়ে ইংলিশ শিবির ও তাদের সমর্থকরা। যদিও ম্যাচে ফিরতে বেশি সময় লাগেনি। ১৮ মিনিটে অধিনায়ক হ্যারি কেন পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা আনেন। তিনি নিজেই পেনাল্টি আদায় করেছেন। হ্যারি কেন গোলমুখে শট নেয়ার সময় ডাচ ডিফেন্ডার ডেনজেল ডামফ্রিজ তাকে ফাউল করলে পেনাল্টি দেন রেফারি। 

এরপর প্রথমার্ধের বাকিটা সময় আধিপত্য করে ইংলিশরা। ম্যানসিটি তারকা ফিল ফডেন গতিময় ফুটবলে একাধিক সুযোগ তৈরি করেছেন। যদিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। তার একটি শট গোললাইন থেকে ফিরিয়েছেন ডামফ্রিজ। একটি শট বারে লেগেছে, ডাচ গোলকিপার বার্ট ভারব্রুগেন ঠেকিয়েছেন আরেকটি। 

ডাচরাও সুযোগ পেয়েছিল। ডামফ্রিজের হেডার ইংল্যান্ডের গোলবারে লাগলে আফসোস করে অরেঞ্জ আর্মিরা। ইংলিশ গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডও দক্ষতার সঙ্গে সেভ করে দলকে সমতায় রাখেন। 

প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ মিলিয়ে গোল আর কিছুতেই আসছিল না। অবশেষে ম্যাচের শেষ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ওলি ওয়াটকিনসের গোলে জয় নিশ্চিত করে ইংলিশরা। ৮১ মিনিটে নেমেছিলেন কেনের বদলি হিসেবে। তিনিই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিলেন। কোল পালমারের অবিশ্বাস্য এক পাস থেকে গোল করে তিনি ব্যবধান ২-১ করে দেন।