কাগজে
কলমে বন্ধ রয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, গোয়াইনঘাটের জাফলং, জৈন্তাপুরের শ্রীপুর, কানাইঘাটের লোভাছড়াসহ অন্য পাথর কোয়ারিগুলো। কোনো কোনো উপজেলায় পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী
বাহিনী। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শ্রীপুরসহ জৈন্তাপুরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারী চক্রের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থাই।
ফলে পরিবেশের পাশাপাশি হুমকিতে রয়েছে সেখানে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আটজনের একটি চক্র গড়ে উঠেছে জৈন্তাপুরে। এর পেছনে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা। প্রায় দুইশতাধিক শ্রমিক দিয়ে তারা বন্ধ থাকা শ্রীপুর কোয়ারি থেকে দেদারসে পাথর উত্তোলন করছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত তা অব্যাহত রয়েছে। আবার বসতঘরের মেঝে খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করছেন। মাঝেমধ্যে দিনের বেলায় লোক দেখানো অভিযান চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় রাতে আবার পাথর উত্তোলন শুরু করে ওই চক্র।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শ্রীপুর কোয়ারি কাগজে কলমে বন্ধ থাকলেও সেখানে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত থাকায় কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না। জৈন্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারি শ্রীপুর। দীর্ঘদিন থেকে জেনে আসছি কোয়ারিটি বন্ধ রয়েছে। অথচ প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের মহাযজ্ঞ চলতে দেখা যায়।’
অন্যদিকে নানা অজুহাতে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের গোয়াবাড়ীর আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ আশপাশের পাহাড় ও টিলা কেটেও পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। সরজমিনে গোয়াবাড়ী ঘুরে দেখা যায়, মুজিববর্ষের নতুন ঘর এলাকা, পুরাতন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গোয়াবাড়ীর বিভিন্ন ছোটবড় টিলা কেটে দিনরাত পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে চক্রের সদস্যরা। অপরিকল্পিত এ পাথর উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পড়েছে সেখানকার পরিবেশ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়িসহ নানা স্থাপনাও রয়েছে হুমকিতে।
নাজমুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘গোয়াবাড়ীতে অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলন করায় ওই এলাকার ঘরবাড়ি ও টিলাভূমি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনই পাথর খেকু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।’ সেখানকার পাথর শ্রমিকরা যদিও দাবি করেন, এ এলাকায় বন্ধ হলে সব জায়গায় পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) রিপামনী দেবী বলেন, ‘আমি দুদিন আগেও অভিযান পরিচালনা করে উত্তোলিত পাথর নিলামে বিক্রি করেছি। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রীপুর কোয়ারি মূলত বন্ধ রয়েছে। তবে একটি চক্র রাতের আঁধারে পাথর চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনরাত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন সবার জন্য সমান। শ্রীপুর হোক আর নিজপাট, সব জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে পাথর কোয়ারি বন্ধ রয়েছে। সেখানে কাউকে সুবিধা দেয়া না দেয়ার বিষয় নেই, পরিবেশ যে-ই ধ্বংস করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










