প্রতি বছর চাঁদপুরে কৃষকের একটি বড় অংশ আলুর আবাদ করে আসছে। দুটি ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে চলতি মৌসুমে সঠিক সময়ে কৃষক আলু চাষ করতে পারেননি। এর মাঝে দেখা দিয়েছে ছত্রাক জাতীয় রোগ। এতে গাছের পাতা সাদা হয়ে ধীরে ধীরে নুয়ে পড়ছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও ফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি কৃষকের। এতে আলুর ফলন বিপর্যয় হতে পারে। সার, বীজ ও কীটনাশক খরচ দিয়ে ভালো দাম না পাওয়া গেলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
কৃষি বিভাগ বলছে, কুয়াশার কারণে আলুর বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষককে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আলু উৎপাদনে চাঁদপুর শীর্ষ পাঁচটির জেলার মধ্যে একটি। জেলায় এ বছর আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১১০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৯০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ কম হয়েছে। এর মধ্যে আলুর আবাদ বেশি হয় সদর উপজেলা, হাজীগঞ্জ ও মতলব দক্ষিণে। এ বছর আলুর দাম বেশি হওয়ায় চাষীর সংখ্যাও বেড়েছে।
সদর উপজেলার আশিকাটি ইউনিয়নের চাঁদখার দোকান এলাকার কৃষক রোস্তম আলী বলেন, ‘এ বছর আমাদের ৪০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ হয়েছে কিন্তু কুয়াশার কারণে আলুর গাছগুলো বড় হচ্ছে কম। ভালো ফলন নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। দেরিতে আলু উত্তোলন করলে দামও কম পাওয়া যাবে।’
জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান রূপম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারো জেলায় ১৩টি হিমাগারে ৮২ হাজার টন আলু সংরক্ষণের ধারণক্ষমতা রয়েছে। এছাড়া আমাদের কয়েকটি মডেল ঘর আছে। সেগুলোয় কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে পারবেন।’
চাঁদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাফায়েত আহম্মদ সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুটি ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির কারণে এবার সঠিক সময়ে কৃষক আলু চাষ করতে পারেননি। তাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এছাড়া কুয়াশার কারণে আলুতে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। তাই কৃষককে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্নভাবে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এর পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলন আশা করছি। এছাড়া বিগত বছরের মতো আমরা জেলার চাহিদা পূরণ করে অন্য জেলায় সরবরাহের প্রত্যাশা করছি।’










