জুলাই মাসে নারী ও শিশু সহিংসতার ঘটনা জুনের তুলনায় কমলেও বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার হারে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) এক প্রতিবেদনে উঠে এসে এ চিত্র। আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা ছিল ৩২০টি। জুলাইয়ে তা কমে ৩০৬টিতে দাঁড়ায়। তবে এ সময়ে ধর্ষণ ৬৮ থেকে বেড়ে ৯০টি হয়েছে। আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে ২৮টি হয়েছে।

এতে আরো জানান হয়, কিছু অপরাধের সংখ্যা কমেছে। দলবদ্ধ ধর্ষণ ১৬ থেকে কমে ৭টি হয়েছে। ধর্ষণ শেষে হত্যা ৫ থেকে ৩টি ও সাধারণ হত্যা ৭৬টি থেকে কমে ৫২টি হয়েছে।

তবে যৌন হয়রানি, অপহরণ ও অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা প্রায় অপরিবর্তিত আছে। এছাড়া, বেআইনি সালিশে ফৌজদারি অপরাধ মীমাংসার প্রবণতাও দেখা গেছে। জুলাই মাসে ৩টি ঘটনা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা হয়। এর মধ্যে দুটি ধর্ষণচেষ্টা ও একটি বলাৎকারের ঘটনা।

নবজাতক উদ্ধার, জুয়া ও মাদক

জুলাইয মাসে ১১ জন নবজাতককে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৮ জন মৃত ও তিনজন জীবিত।

এমএসএফ জানায়, এসব ঘটনায় প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নজির বিরল।

প্রতিবেদনে আরো উঠে আসে, অনলাইন জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। এ মাসে অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়। এছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানে আটকের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৯৩ হয়েছে, এবং মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪ জন।

তবে মাদক ব্যবসায় পুলিশের সম্পৃক্ততার চারটি নতুন অভিযোগ উঠেছে। এমএসএফ একে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও মানবাধিকার সম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। এমএসএফ সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এটি আরো বিস্তৃত সংকটে রূপ নিতে পারে।