ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দেখিয়ে ঋণের জন্য আবেদন করা হয়। ঋণ মঞ্জুরের পর কম মূল্য দেখিয়ে ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এভাবে ফ্ল্যাট কেনার জন্য ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঢাকা ব্যাংক রাজধানী ঢাকার গোড়ান ও কাকরাইল শাখায় এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে ব্যাংকের সাত কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ঢাকা ব্যাংকের এই সাত কর্মকর্তাসহ মোট ১৩ জনের নামে দুটি মামলা করেছে দুদক। দুদকের উপপরিচালক শাওন মিয়া বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে (ঢাকা-১) মামলা দুটি করেন।
জামিল শরীফ ওরফে মো. আল আমীন, মো. মজিবর রহমান ওরফে মো. জয়নুল আবেদীন, সামছুল আলম ওরফে রেজাউন্নবী সরকার এবং ঢাকা ব্যাংক গোড়ান শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার বর্তমানে বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাহজাহানপুর শাখার এভিপি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, ঢাকা ব্যাংকের সাবেক সেলস এক্সিকিউটিভ বর্তমানে সানসিড পেস্ট সাইডের ম্যানেজার নাজমুল আলমের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, গোড়ান এসএমই শাখা থেকে প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা আত্মসাৎ করেন।
মো. লিটন চৌধুরী ওরফে মো. ইব্রাহিম খলিল, জামিল শরীফ ওরফে মো. আল আমীন, খাইরুন নাহার ইসলাম এবং ঢাকা ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহেদী জামান খান, একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বর্তমানে ধানমন্ডি মডেল শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আয়েশা সাদাফ হুসাইন, একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বর্তমানে নরসিংদীর মাধবদী বাজার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ওবায়দুল হক রনি ও অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. শাকিল হোসেনের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, ঢাকা ব্যাংক কাকরাইল শাখা থেকে প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা আত্মসাৎ করেন।
দুদক বলছে, রেজিস্ট্রেশনের মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ ঋণ ব্যাংক থেকে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির দেয়ার উদ্দেশেই গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা মিলে রেজিস্ট্রেশনের সময় ফ্ল্যাট কেনার মূল্য কম দেখিয়েছেন। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই ভুয়া। ভুয়া মালিক আসল মালিক সেজে বিক্রি করেছেন।
ঢাকা ব্যাংকের কাকরাইল শাখায় ফ্ল্যাটের মূল্য ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা দেখিয়ে লিটন চৌধুরী ঋণের আবেদন করেন। তাকে ৮৫ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়। তিনি ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৪৪ লাখ ৫ হাজার টাকায়।
২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকে হিসাব খোলার সময় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে লিটন চৌধুরীর জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেলেও পরে পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটের জাল দলিলাদির কারণে ফ্ল্যাটটি মিউটেশনও করা যায়নি।
ঢাকা ব্যাংকের গোড়ান এসএমই শাখায় ফ্ল্যাটের মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দেখিয়ে সামছুল আলম ঋণের আবেদন করেন। তাকে ৮৫ লাখ টাকার ঋণ দেয়া হয়। তিনি ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন করেছেন ৫০ লাখ ৮৭ হাজার টাকায়।
২০২০ সালের ২১ জুলাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ খিলগাঁও থানায় একটি সিআর কেস এবং ৭ ডিসেম্বর একটি ক্রিমিনাল কেস দাখিল করে। সেখানে বলা হয়, গ্রাহকের দেয়া মর্টগেজের ঠিকানায় কোনো প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফ্ল্যাটের জাল দলিলাদির কারণে ফ্ল্যাটটির মিউটেশনও করা যায়নি।










