মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে ঋণের চাপে দুই সন্তানকে বিষপানে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন সায়মা বেগম (৩৩) নামে এক নারী। রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের উত্তর ইসলামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

তবে স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর বসতঘরে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে তাদের। নিহত শিশুরা হলো ছাইমুনা আক্তার (১১) ও মো. তাওহীদ (৮)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরব যান সায়মা বেগমের স্বামী অলি মিয়া। ঋণের চাপে অলি মিয়া দেশে আসতে পারেননি। সায়মা এক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আরেক এনজিওর ঋণ পরিশোধ করছিলেন। প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিওর লোকজন তাদের বাড়ি আসতেন। এ নিয়ে প্রায়ই স্বামী অলি মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে ঝগড়া হতো সায়মা বেগমের। শনিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। রোববার সকালে কেরানীগঞ্জের একটি এনজিওর লোকজন বাড়িতে কিস্তির টাকা নিতে আসেন। তারা ঘরের দরজা ধাক্কাধাক্কি করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তারা জানালার একটি অংশ খুলে দেখতে পান সায়মা বেগম গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন। পরে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

সিরাজদিখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার কররছে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সায়মা বেগমের প্রতিবেশী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কিস্তি পরিশোধ করতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ টাকা ধার চেয়েছিলেন সায়মা বেগম। রোববার ৫-৬টি এনজিওর কিস্তি দেয়ার কথা ছিল। এজন্য সায়মা শনিবারও অনেকের কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন। মূলত ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে সে এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে।