প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের কোনো ধরনের সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না বলিউড তারকা কঙ্গনা রনৌত। যখনই সরকারের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠে, তা নিয়ে সরব হন কঙ্গনা। আরো একবার এর প্রমাণ মিলল শিক্ষামন্ত্রী ধমেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে।

গত সোমবার দিল্লির পার্লামেন্টঁ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি)। সেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এর আগে মাসখানেক ধরে যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থানসহ নানা কর্মসূচি, সোনম ওয়াংচুকের অনশন- সব মিলিয়ে বেশ উত্তপ্ত ছিল দিল্লি। এর মধ্যেই মুখ খুলেছেন কঙ্গনা। ককরোচ জনতা পার্টি তথা তরুণদের এ প্রতিবাদের সমালোচনা করেছেন একেবারে নিজস্ব কায়দায়।

আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে কঙ্গনার বক্তব্য, কে পদে থাকবেন আর কে থাকবেন না, বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তা ঠিক করা যায় না।

পার্লামেন্টের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, জনস্বার্থের সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সঠিক জায়গা হলো পার্লামেন্ট।

নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা এ আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কঙ্গনা বলেন, সংসদের অধিবেশন এমন একটি জায়গা, যেখানে আমরা সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারি এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তুলতে পারি।

কঙ্গনার দাবি, চলমান বিক্ষোভের জেরে পার্লামেন্টের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তার মতে, জনগণ ভোট দিয়ে যে সরকারকে নির্বাচিত করেছে, সেই সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা ঠিক করার অধিকার তাদেরই রয়েছে। বিক্ষোভ দেখিয়ে সরকারকে চাপে ফেলা ঠিক নয়। সরকার কীভাবে দেশ চালাবে, তা ঠিক করার অধিকার সরকারের। যদি এতই আপত্তি থাকে, তাহলে নিজেরাই নির্বাচনে দাঁড়ান। জানি সেই সাহস কারো নেই।

তিনি আরো বলেন, ধীরে ধীরে সবাই বিজেপি এবং সনাতন সংস্কৃতির দিকেই ফিরে আসবেন। কারণ, এটাই আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। বাকি সবই বাইরে থেকে ধার করা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বক্তব্যের জেরে পরবর্তীতে আন্দোলনকারীদের রোষানলে পড়তে হয়েছে কঙ্গনাকে। অভিনেত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি নিরপেক্ষ নয় বলে অভিযোগ করছেন তারা।