বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘বিএনপি কোনো অবস্থাতেই পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনে বিশ্বাসী নয়। যারা পিআরের কথা বলছেন, তারা জনগণের কাছে গিয়ে দেখতে পারেন; তারা কী চায়। কোনো অবস্থাতেই দলীয় স্বার্থ হাসিল করতে একটি পদ্ধতিকে জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া যায় না।’

গতকাল বিকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর স্মরণসভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যারা নতুন নতুন কথা বলে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে প্রলম্বিত করার বাহানা খুঁজছেন, তারা খুঁজতেই পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বিগত ৫৪ বছর ধরে সরাসরি ভোট দিতে অভ্যস্ত। দেশের সংবিধানে রয়েছে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা। এতেই বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে। যেসব দল পিআরের কথা বলছে, তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সেটা উল্লেখ করতে পারে। দেশের জনগণ যদি তাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তখন তারা পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু বিগত ৬০ বছরের ইতিহাসে তাদের কতজন প্রতিনিধি সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল ছিলেন, আদৌ কি দেশের মানুষ তাদের কোনো দায়িত্ব দিয়েছিল? রাজনৈতিক দল হিসেবে অতীতে আমাদের দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখান থেকে বিএনপি মনে করে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী চলমান পদ্ধতিতে নির্বাচন করতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন। তাই বলাই যায় নির্বাচনের আগেই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন।’

নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে ডা. জাহিদ বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জনগণের আস্থাভাজন হাজার হাজার প্রার্থী রয়েছে আমাদের। দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ড যথা সময়ে দলীয় মনোনয়ন দেবে। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণা করবে, তার আগে অথবা পরে দলের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহল প্রার্থী ঘোষণা করবেন। আগামী বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেয়ার জন্য, তারেক রহমানের যে ঘোষণা, সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য দল যাদের প্রার্থী করা প্রয়োজন মনে করবে যথা সময়ে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। এটি নিয়ে কারো দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।’

নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘মধ্য ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের যে ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টা দিয়েছেন এবং তার পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি প্রধান উপদেষ্টা ঘোষিত ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন, সেটি যথা সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।’