বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা নির্ভর করবে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য।

সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, যদি সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করা যায়, তাহলে ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে। তবে সংস্কারের জন্য বেশি সময় প্রয়োজন হলে নির্বাচন কয়েক মাস পিছিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর তাকে (ড. ইউনূস) অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিতে বলা হলে তিনি প্রথমে হতবাক হয়ে যান।

ড. ইউনূস বলেন, আমি কখনো ভাবিনি সরকার চালানোর দায়িত্ব নেব। প্রশাসনিক কোনো অভিজ্ঞতা না থাকায় কীভাবে কাজ করব, তা বুঝতে সময় লেগেছে। তবে আমরা দ্রুত সংগঠিত হয়েছি ও কাজ শুরু করেছি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও অর্থনীতি পুনর্গঠনকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন ড. ইউনূস।

ঢাকার সরকারি বাসভবনে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে আসবে কিনা। আমি তাদের হয়ে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

ড. ইউনূস দাবি করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে যেন ভয়ংকর টর্নেডো চলেছে। এখন আমরা ধ্বংসস্তূপ থেকে টুকরোগুলো জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং রাজনৈতিক বিরোধী দলগুলোকে কঠোরভাবে দমন করেন, এমন অভিযোগ করেছেন ড. ইউনূস। শেখ হাসিনার শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা ও কারাবন্দি করার অভিযোগ ওঠে।

একটি ছাত্র নেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা গত বছর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর আন্দোলনকারীদের আহ্বানে ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা থেকে বের হয়ে এসছি।

গত জুলাইয়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভে বহু মানুষ নিহত হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকার বাসিন্দারা এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ করছেন, এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, উন্নতি আপেক্ষিক বিষয়। যদি গত বছরের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে পরিস্থিতি সহনীয় মনে হবে।

তিনি বলেন, যা এখন ঘটছে, তা অন্য সময়ের চেয়ে আলাদা কিছু নয়।

শেখ হাসিনার শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো ক্ষুব্ধ। এছাড়া সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে তার বিচারের দাবি জানিয়েছে। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তবে ভারত এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, এখানে আদালত আছে, আইন আছে, থানা আছে। তারা সেখানে গিয়ে অভিযোগ জানাতে পারে।

তিনি বলেন, থানায় গিয়ে দেখুন আইন কীভাবে কাজ করছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বৈদেশিক সহায়তা কমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, এটি তাদের সিদ্ধান্ত।

তিনি আরো বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চেয়েছিলাম, যা তারা সমর্থন করছিল। তবে আমরা এটি নিজেদের মতো করেই সামাল দিতে পারব।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক সাহায্যদাতা। গত বছর মার্কিন সরকার বাংলাদেশকে ৪৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ সহায়তা কমলে ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা হবে, এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, যখন এটি ঘটবে, তখন আমরা সামলে নেব।