চিকিৎসা প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি অর্জনের শিক্ষামূলক ক্ষেত্র হলো ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)। এ শিক্ষা স্বাস্থ্যসেবা খাতটি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় পেশাদার জনবল তৈরিতে ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ফিজিওথেরাপি ইত্যাদি বিষয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ থাকে। দক্ষ জনবল তৈরিতে ২০২১ সালে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জে স্থাপন করা হয় ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি। প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণের পর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেডিওগ্রাফি বিভাগে শুরু হয় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম। তবে শিক্ষক ও সরঞ্জাম সংকটে শিক্ষা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। এ অবস্থায় তিনটি ব্যাচে ভর্তি হওয়া দেড়শ শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক, ল্যাবরেটরি ও অন্যান্য সরঞ্জাম। প্রতিষ্ঠানটিতে পদ সৃষ্টি না করেই তিন ব্যাচে ভর্তি করা হয়েছে দেড়শ শিক্ষার্থী। এতে সরকারি এ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় দিন কাটছে তাদের।

ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক ও আবাসিক ভবনসহ অবকাঠামো নির্মাণের পর ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দুটি বিভাগে শুরু হয় শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম। এরপর তিনটি শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত ৫০টি করে আসনে দেশের বিভিন্ন জেলার ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। অবশ্য ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে আর কোনো শিক্ষার্থী ভতি করা হয়নি। অধ্যক্ষ, দুজন শিক্ষক ও একজন অফিস সহায়ক দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হলেও এক বছর আগে বদলির কারণে শূন্য হয় অধ্যক্ষের পদটি। এর পর থেকে দুজন শিক্ষক দিয়ে চলছে দেড়শ শিক্ষার্থীর পাঠদান।

ল্যাব মেডিসিন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দীপ্ত দাস ও আবু সায়েদ বলেন, ‘শিক্ষক ও ল্যাব না থাকায় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও প্র্যাকটিক্যাল করতে পারছেন না। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই দ্রুত সব সমস্যা সমাধান করা হোক।’

সার্বিক বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সুভাস চন্দ্র সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পদ সৃষ্টি না করেই একজন সিনিয়র লেকচারার ও একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট দিয়ে চালানো হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এ অবস্থায় গেস্ট টিচারদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো সম্ভব হলেও দ্বিতীয় বর্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না।’