ছয় দফা দাবি ও শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ অবরোধ করেছেন ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা। এর ফলে গতকাল বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত রেলপথে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে আড়াই ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ছয় দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় উপাচার্যের ক্ষমা চাওয়াসহ ছয় দফা দাবিতে সাড়া না মেলায় রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আক্তার হোসেন বলেন, ‘রেলপথ অবরোধের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ও জামালপুর কমিউটার ট্রেন আটকা পড়েছিল। পরে অবরোধ তুলে নেয়ায় রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।’

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী এএইচএম হিমেল ২টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে হল ত্যাগের নির্দেশনা প্রত্যাখ্যানসহ ছয় দফার আলটিমেটাম দেন।

পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘যৌক্তিক দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। বহিরাগতদের দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলার বিচার, হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাহার, ‘‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’’ চালু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। প্রশাসন এসে দাবি মেনে নিলেই আমরা অবরোধ তুলে নেব।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এর আগে দাবি আদায়ে প্রায় ২০০ শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে রোববার দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখাকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গতকাল সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়।

তবে হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন হল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা কেআর মার্কেটে জড়ো হন। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছয় দফার আল্টিমেটাম দেন তারা। আল্টিমেটাম না মানায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।