ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে সড়ক ও অবকাঠামোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেগুলোর উন্নয়নের ফলে সর্বাধিক মানুষ উপকৃত হবেন। এ জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।

আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের রেস্ট হাউজে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকার প্রকৃত সমস্যাগুলো স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতারা সবচেয়ে ভালো জানেন। কোথায় সড়ক সংস্কার প্রয়োজন, কোথায় নতুন সড়ক নির্মাণ করতে হবে, কোন এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই কিংবা কোন অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন—এসব বিষয় স্থানীয় পর্যায় থেকেই চিহ্নিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই উন্নয়নের সুফল যেন সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এমন কোনো সড়ক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেটি দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। স্থানীয় নেতারা জনগণের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সড়ক ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের তালিকা তৈরি করবেন। ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ বাকি সড়কগুলোও পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় সড়কবাতির প্রয়োজন রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে আলোকায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজের তথ্যও জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলিত সড়ক, নালা-নর্দমা ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতের দুর্ভোগে ছিলেন, সেসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করছি না, প্রতিটি প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং জনগণ এর সুফল পাচ্ছেন কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জনগণের প্রয়োজন ও স্থানীয় বাস্তবতার ভিত্তিতে উন্নয়নকাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে। স্থানীয় জনগণের মতামত ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। কোন সড়কটির উন্নয়ন আগে হওয়া প্রয়োজন, কোথায় পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে কিংবা কোথায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি এসব বিষয়ে এলাকার মানুষের অভিজ্ঞতা আমাদের পরিকল্পনাকে আরো বাস্তবসম্মত করতে সাহায্য করে। তাই আমরা স্থানীয় নেতাদের পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

সভায় চসিকের প্রকৌশল বিভাগের তৈরি উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন দুই ওয়ার্ডে বিগত সময়ে সম্পন্ন, চলমান ও পরিকল্পনাধীন উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, প্রাক্কলিত ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় নেতাদের অবহিত করা হয়।