পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, ভাঙন থেকে তীরবর্তী স্থাপনা ও কৃষিজমি রক্ষাসহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। গতকাল সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলায় তিস্তা নদীতীরে পৃথকভাবে মশাল প্রজ্বালন করে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি এ কর্মসূচি আয়োজন করে। একই সঙ্গে গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর ও নীলফামারীতেও একই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
তিস্তাপাড়ের মানুষের দাবি, যুগের পর যুগ ধরে তিস্তায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি বিলীন হলেও ভাঙন রোধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিগত কোনো সরকারই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করার দাবি জানান তারা।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলাসহ রংপুর বিভাগের ১১টি স্পটে তিস্তা তীরে মশাল প্রজ্বালন করে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবিতে কয়েকটি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তার নাব্য ফিরিয়ে আনা হোক। একই সঙ্গে তিস্তা তীর সংরক্ষণ করে তীরবর্তী হাজারো বাসিন্দার নিরাপদ বসবাস এবং চাষাবাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। এগুলো তিস্তা তীরের মানুষের প্রাণের দাবি। নদী বাঁচলে মানুষ বাঁচবে, কৃষি বাঁচবে, জীববৈচিত্র্য টিকে থাকবে।’
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জেও তিস্তা নদীর তীরে মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সন্ধ্যায় উপজেলার হরিপুর তিস্তা নদীর মাওলানা ভাসানী সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এছাড়া লালমনিরহাটে তিস্তা নদীপাড়ে মশাল প্রজ্বালন করা হয়েছে। তিস্তা সড়ক ও রেল সেতুর মধ্যবর্তী স্থানে এবং তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচি উদ্বোধন করেন তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।










