ফেনীতে এবার কোরবানিতে পশুর চাহিদা লক্ষাধিক। এর বিপরীতে জেলায় স্থানীয় খামারিরা পশু পালন করেছেন ৮৮ হাজার ১৯৬টি, যা দিয়ে কোরবানির চাহিদার ৯০ শতাংশ পূলন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এদিকে ফেনীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে গরু চোরাচালান প্রতিরোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী উপজেলা ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কর্তৃপক্ষ সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। সীমান্তে বাড়ানো হয়েছে বিজিবির টহল।

এ বিষয়ে ফেনীর ৪ বিজিবির পরিচালক (অধিনায়ক) লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাহিদুজ্জামান বলেন, গত কয়েক মাসে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের সময় প্রচুর ভারতীয় গরু ও মোটাতাজাকরণের বিপুল পরিমাণ ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ৪ হাজার ২২২ জন খামারি ২৩ হাজার ৩০৮টি ষাঁড়, ৩৯ হাজার ২৭২টি বলদ, ৯ হাজার ৪৬টি গাভী, ৪ হাজার ৯০টি মহিষ, ১০ হাজার ২৭টি ছাগল, ২ হাজার ২টি ভেড়া ও ৭০টি অন্য পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ২১ হাজার ৪০৮টি, ছাগলনাইয়ায় ১১ হাজার ৯২০, দাগনভূঞায় ২৪ হাজার ৭৫২, সোনাগাজীতে ১৬ হাজার ৫০০, পরশুরামে ৮ হাজার ৪৩১ ও ফুলগাজীতে ৫ হাজার ১৮৫টি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এ পরিমাণ পশু দিয়ে জেলার কোরবানির চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা সম্ভব।

এদিকে খামারিরা জানান, সাধারণত কোরবানির সময় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু নিয়ে আসে একটি চক্র। এসব গরু বাজারে কম মূল্যে বিক্রি করায় দেশীয় খামারিরা তাদের গরুর ভালো দাম পান না। তাছাড়া ঈদের আর মাত্র দুইদিন বাকি থাকলেও ফেনীর পশুর হাটগুলোয় বেচাকেনা জমে ওঠেনি।

ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া বাজার, লস্করহাট বাজার, সোনাগাজী মোহাম্মদ সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বেশ কয়েকটি পশুর হাটে দেখা যায়, দেশী গরুর পাশাপাশি বিদেশী গরুর আধিক্য। স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, কম দামে হাটে বিদেশী গরু পাওয়ায় দেশী গরুর উপযুক্ত দাম মিলছে না।

পরশুরাম উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, তার খামারে তিন শতাধিক গরু লালন-পালন করা হয়েছে। খামারে প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন অন্তত ২০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এ অবস্থায় ভালো দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে।

এদিকে জেলার ৫০টি পশুর হাটে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের টিম হাটগুলোয় পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ খামারি ও বেপারিদের দিকনির্দেশনা দেবেন।

ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী বলেন, পশুর হাটসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিনতাই চাঁদাবাজি রোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তত্পর রয়েছে। তাছাড়া কোরবানির পশু কিনে মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।