চাঁদপুরের মঠখোলা ও খলিসাডুলী এলাকায় শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা জমে উঠেছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে প্রতি বছরের মতো এবারো চৈত্র সংক্রান্তি অর্থাৎ নববর্ষের আগের দিন এ মেলার আয়োজন শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে ‘শিব্বিরা’ নামে পরিচিত এ মেলাটি ঘিরে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ও খলিসাডুলী প্রবেশের রাস্তায় দোকানিরা নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলায় বৈশাখী আমেজের বাঁশি, ঢোল, বেলুনসহ মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া ও বিভিন্ন পুতুল শোভা পাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এসব ঐতিহ্যবাহী জিনিস কিনতে মেলায় ভিড় করছেন।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠরা জানান, এ মেলা প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। খলিসাডুলী এলাকার ৭৬ বছর বয়সী আবেদ আলী মিয়া ও ৭৫ বছর বয়সী নওয়াব আলী পাটওয়ারী জানান, তারা জন্ম থেকেই এ মঠখোলা বাজারে বৈশাখী মেলা বসতে দেখছেন। পহেলা বৈশাখের আগের দিন থেকে শুরু হওয়া এ মেলা পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও ছড়িয়ে পড়ে।
তারা আরো জানান, এক সময় ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি বেশি ছিল। সেখানে শিব গাছতলায় শিব পূজা হতো। সেই শিব গাছের নিচেই প্রথম বৈশাখী মেলা শুরু হয়। গ্রামের ভাষায় তখন থেকেই মেলাটি ‘শিব্বিরা’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে ওই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বসতি কমে যায়। শিব গাছতলার কাছাকাছি মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হলে ধীরে ধীরে মেলাটি মঠখোলা বাজারের রাস্তার দুই পাশে স্থানান্তরিত হয়। এরপর থেকেই প্রতিবছর বৈশাখের প্রথম প্রহরে মঠখোলা ও খলিসাডুলী এলাকায় এ মেলা বসছে।










