এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২০৯ জনে। আরো ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে একই সময়, যাদের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নতুন করে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে, পাঁচ শিশু। এছাড়া ঢাকা বিভাগে তিন, সিলেট বিভাগে দুই ও রাজশাহী বিভাগে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৯৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়; আর ৬৭ শিশু মারা গেছে রাজশাহী বিভাগে।
এর আগে ৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে অবশ্য দুজনের মৃত্যু হামে হয় বলে নিশ্চিত করা হয়। বাকি ৯ শিশুর ছিল হামের উপসর্গ। গত ৭ এপ্রিলও হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দেয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকালের বুলেটিনে জানিয়েছে, দেশে একদিনে নতুন করে হাম আক্রান্ত হয়েছে আরো ২২৯ শিশু। এদিন সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৮ শিশুর দেহে হামের উপসর্গ থাকায় হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মধ্যে ৭৭০ শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৬৮ শিশু ভর্তি হয়েছে ঢাকার হাসপাতালগুলোয়। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৬০৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে গেছে, তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ হাম নিয়ে ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোগটি ছড়িয়ে পড়া এবং সৃষ্ট স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বাংলাদেশ কেন ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ সেই কারণ তুলে ধরতে গিয়ে ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক বিভাগে সংক্রমণ ক্রমাগত ছড়িয়ে পড়ছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাও তারা কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। সংস্থাটি আরো উল্লেখ করে, হামে আক্রান্তদের বড় অংশের টিকা নেয়া ছিল না। কারো কারো আবার প্রথম ডোজ নেয়া, দ্বিতীয় ডোজ নেয়া হয়নি। আগের অর্থবছরে দেশে হামের টিকার ঘাটতি এবং পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেশব্যাপী সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি অনিয়মিত হয়ে পড়ার কারণেও ঝুঁকি বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে গত ২০ এপ্রিল থেকে দেশে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকাদানের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের আট বিভাগে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬২ লাখ ৬৮ হাজার ৪২৮ শিশু টিকা পেয়েছে। এছাড়া দেশের ১২ সিটি করপোরেশনে ১০ লাখ ৭২ হাজার ৮৯০ শিশু টিকা পেয়েছে।










