দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের বড় একটি অংশ আসে ফরিদপুর থেকে। পেঁয়াজ উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এ জেলা। চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় পণ্যটি আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বাজার দাম নিয়ে বিপত্তিতে পড়েছেন চাষীরা। এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে দেড় হাজার টাকার বেশি খরচ হলেও সে অনুপাতে দাম মিলছে না।
চাষীরা বলছেন, বছরে প্রায় ছয় লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ফরিদপুরে। চলতি বছর রবি মৌসুমে ৫ হাজার ২০০ কৃষকের মাঝে তাহেরপুরী, বারি-৪ ও বারি-৬ জাতের পেঁয়াজ বীজ বিতরণ করেছিল বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। এক কেজি বীজের সঙ্গে ২০ কেজি সারও দেয়া হয়। তবে প্রণোদনা পাওয়া বীজের কোথাও কোথাও শতকরা ৮০ শতাংশই অঙ্কুরিত হয়নি। দ্বিতীয় দফায় বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করতে হয়েছে। এতে খরচ কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া খেত থেকে সংগ্রহের পর পেঁয়াজের ওজন বেশি থাকে। তবে কিছুদিন ঘরে রাখলে এক মণ পেঁয়াজের ওজন হয় ৩৫ কেজি। বর্তমানে বাজারগুলোতে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৭০০ টাকা। চাষীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৬০ টাকা ও প্রতি মণ ২৪০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে তাদের লোকসানে পড়তে হতো না।
ফরিদপুরে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় সালথা উপজেলায়। ঠেনঠেনিয়া ও বালিয়া গোট্রিসহ সেখানকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রকার ভেদে প্রতি মণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০-১৭০০ টাকা। বালিয়া গোট্রি বাজারে ভোর থেকেই চাষীরা পেঁয়াজ নিয়ে আসেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীর পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন। আর ঠেনঠেনিয়া বাজারটি চলে দুপুর পর্যন্ত। সপ্তাহে রবি ও বুধবার বসে পেঁয়াজের হাট। প্রতি হাটে ২৫০-৩০০ টন পেঁয়াজ বেচাকেনা হয় এখানে।
রহিম শেখ, মহিদ মোল্লা, রজব আলীসহ কয়েকজন কৃষক জানান, ভরা মৌসুমে পেঁয়াজের দাম ছিল প্রতি মণ ১ হাজার টাকা। এর পর তা ২ হাজার টাকায় উঠেছিল। একটু বেশি দামের আশায় এতদিন ঘরে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখে ছিলাম। কিন্তু এখন যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে উৎপাদন খরচ তোলা মুশকিল। তার ওপর আবার এতদিন পেঁয়াজ মজুদ করে রাখায় ওজন কমেছে। প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম ২৫০০ টাকা না হলে টিকে থাকা মুশকিল।
সার্বিক বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, ‘জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়। এর মধ্যে শীতকালীন মুড়িকাটা পেঁয়াজ, হালি পেঁয়াজ এবং দানা পেঁয়াজ। এ তিন ধরনের পেঁয়াজের মধ্যে হালি পেঁয়াজ বেশি আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনও ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কম হলেও লোকসান হবে না। পেঁয়াজের মান ভালো থাকায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করাও সম্ভব।’










