নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিবদমান দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি মামলায় ফের উত্তপ্ত বসুরহাট পৌরসভা। চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত মিজানুর রহমান বাদল ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে, গ্রেফতার হয়েছেন বাদল। যদিও বাদলের সমর্থকদের দুটি মামলার আবেদন রেকর্ড করেনি কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৌর ভবন ঘিরে রাখলে গুজব ওঠে, শুক্রবার ভোরে গ্রেফতার করা হতে পারে আবদুল কাদের মির্জাকে। যদিও তেমনটি ঘটেনি। গতকাল সকালেই পৌর ভবনের বাইরে আসেন তিনি।
গতকাল দুপুরে গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতা বাদলকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১ নং আমলি আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালতের বিচারক সোয়েব উদ্দিন খান শুনানি শেষে বাদলকে জেলা কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।
জানা যায়, পৌরসভায় হামলার জের ধরে গত মঙ্গলবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা চত্বরে কাদের মির্জা ও বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওইদিন আলাউদ্দিন নামে একজন যুবলীগ কর্মী নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন ১৫ জন, আহত হন অন্তত ৪০ জন। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে পুলিশ দু’পক্ষের ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ১৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেফতার করেছে।
এছাড়া কাদের মির্জার পক্ষের সমর্থকরা দুটি মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাদলকে। বৃহস্পতিবার বিকালে নোয়াখালী প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে সাদা পোশাকের একদল লোক বাদলকে তুলে নিয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেফতার করেছে বলে স্বীকার করে পুলিশ। গতকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে আলাউদ্দিন নিহতের ঘটনায় তার ছোট ভাই এমদাদ হোসেন হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলেও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। এমদাদ হোসেন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে গতকাল বেলা ২টা পর্যন্ত একাধিকবার থানায় গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। মামলায় আবদুল কাদেরকে প্রধান আসামি করে ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়। কিন্তু মামলায় মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তার ভাই শাহাদাত হোসেন ও ছেলে মির্জা মাশরুর কাদের তাসিককে আসামি করার কারণে পুলিশ তার মামলা গ্রহণ করেনি। পুলিশ তাকে বলেছে, মামলা থেকে মির্জার নাম বাদ দেয়ার জন্য।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, তারা মির্জা কাদেরের নাম বাদ দিতে কোনো চাপ দেননি। মামলায় কিছুটা অসংগতি থাকায় তা ঠিক করে আনতে বলা হয়েছে। তবে কী ধরনের অসংগতি রয়েছে তা তিনি নিশ্চিত করেননি।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে গতকাল ভোরে বসুরহাট রূপালী চত্বর থেকে সাতটি ককটেল ও ২৬টি গাবের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।










