আগামীতে ক্ষমতায় গেলে চব্বিশের শহীদ পরিবার ও আহতদের মূল্যায়ন করবে বিএনপি। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে তাদের জন্য আলাদা বিভাগ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, একাত্তরে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা দেশের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন, তেমনই চব্বিশের জুলাই যোদ্ধারাও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা হয়তো শহীদদের ফিরিয়ে আনতে পারব না। কিন্তু তাদের পরিবারের সদস্যরা যাতে কিছুটা ভালো থাকতে পারেন, সে ব্যবস্থা করব।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ী কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নেতাকর্মীদের পরিবার এবং আহত নেতাকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। অনেকে স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে আবার কেউ কেউ হুইল চেয়ারে করে আসেন। এ সময় তারেক রহমান তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তারা তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবে আমাদের শোকসভা ও শোকগাঁথা চলতেই থাকবে। তাই গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়গাঁথা রচনা করতেই হবে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের এক চোখ হারিয়েছে অথবা কারও দুই চোখই নষ্ট হয়েছে এবং পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ এবং আহত হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তাই জুলাইয়ে আহত ও হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সেটি উপলব্ধি করে। তাই আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে, আমরা সে উদ্দেশ্য পূরণ করবো।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। অধিকার হারা মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী প্রিয় মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার পাটোয়ারী।










