কোটা সংস্কারের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, ‘প্রথমে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে সরকারের জারি করা যে পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে, তা পুনর্বহাল করতে হবে। এটি পুনর্বহাল করার ক্ষমতা শুধু বিচার বিভাগেরই আছে। কাজেই ধরে নেয়া যায়, বিচার বিভাগ, অর্থাৎ হাইকোর্ট ২০১৮ সালে সরকারের যে পরিপত্রটি বাতিল করেছিলেন, তারা হাইকোর্টের কাছে সেটি পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশ সড়কে আন্দোলন করে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। এটি পরিবর্তন করতে হলে একমাত্র সর্বোচ্চ আদালতে গিয়েই করতে হবে।’

গতকাল বিকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ—নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইনসভা কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে ধারণা না থাকলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একেকবার রাষ্ট্রের একেক অঙ্গের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। মনে হচ্ছে তাদের সম্যক ধারণার কিছুটা অভাব রয়েছে।’

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘যখন হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে এবং আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, তখন সরকারের অবস্থান এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থান একই হয়ে গেল। আন্দোলনকারীরা তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগও করলেন এবং তিনি সরকার পক্ষভুক্ত হলেন। অথচ আন্দোলনকারীরা আবার তাদের দাবি পরিবর্তন করে বলা শুরু করল, সরকারকে কমিশন গঠন করতে হবে।’

তিনি বলেন, যখন সরকার হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে সর্বোচ্চ আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় ঢুকে গেছে, সে অবস্থায় কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করা বা সংস্কার করার ঘোষণা দেয়ারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ এটা অসাংবিধানিক হবে। কিন্তু তারা সেই অসাংবিধানিক দাবি শুরু করল।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘এর মধ্যে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা বা স্ট্যাটাস ক্যু নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে এও বলা হয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর থাকল না, অর্থাৎ কোটা বিষয়ে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহাল হয়ে গেল। আন্দোলনকারীদের সেই দাবি চার সপ্তাহের জন্য পূরণ হয়ে গেল, যেটা তাদের প্রাথমিক দাবি ছিল। সর্বোচ্চ আদালতও আন্দোলনকারীদের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য আদালতের দরজা সবসময় খোলা।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ তথা সরকার যখন আদালতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মীমাংসার পথে এগোচ্ছে, তখন আন্দোলনকারীরা আবার তাদের দাবি পরিবর্তন করে বলা শুরু করে, বিচার বিভাগ নয়, নির্বাহী বিভাগের মাধ্যমে সমাধান চায় তারা। অথচ সর্বোচ্চ আদালতের প্রক্রিয়া পুরোপুরি সমাপ্ত না করে সরকার এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনো ঘোষণাও দিতে পারবে না; এটা তো সবারই জানা।’