নোয়াখালীর সুবর্ণচর উজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মহি উদ্দিন চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তর। তার বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ শোকজ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তাকে শোকজ নোটিশ পাঠান জেলা স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু ইউসুফ।

স্থানীয় সরকার নোয়াখালী শাখার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মো. মহি উদ্দিন চৌধুরী ৩০৬ নম্বর উরির চর ও ২৬৬ নম্বর চরলক্ষ্মী মৌজার সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ভূমি জবর দখল করেন যা পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লিজ দেয়া হয়। এরইমধ্যে সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভূমি দখলের সত্যতা পান এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন তিনি।

জানা যায়, ওই ভূমিতে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনিস্টিটিউট’ স্থাপনের জন্য এরইমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া খাস জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেয়ার আবেদন করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন মামলাও দায়ের করে ‘নিজেরা করি’ নামে একটি উন্নয়ন সংস্থা। কিন্তু রিট পিটিশন থাকা স্বত্বেও ওই ভূমি দখল করেন চেয়ারম্যান।

এ ধরণের কার্যকলাপ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৮ (৮) (ঘ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সামীল হওয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে কেন প্রস্তাব প্রেরণ করা হবেনা- ওই শোকজ নোটিশে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্যও চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহি উদ্দিনের মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

শোকজ নোটিশ প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুবর্ণচর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুর রহমান। তিনি জানান, সরজমিনে তদন্ত করে চেয়ারম্যান মহি উদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি ভূমি দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনের পর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। চেয়ারম্যানের দখলে ৫০০ থেকে ৭০০ একর সরকারি খাস জমি রয়েছে বলে তিনি জানান।