ভ্রমণপ্রিয় মানুষের থাকার সুব্যবস্থা নিশ্চিতে রংপুুর নগরীর আরকে রোডের পাশে ১৯৯০ সালে মোটেল নির্মাণ করে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। শুরুতে ভবনটির সৌন্দর্য বিমোহিত করে পর্যটকদের। তখন বছরজুড়েই অতিথিদের পদচারণায় মুখরিত থাকত মোটেলটি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির আধুনিকায়ন না করায় এরই মধ্যে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে অধিকাংশ কক্ষ ও আসবাব। এ দিয়েই চলছে গ্রাহকসেবা। বর্তমানে একবার এ মোটেলে রাত্রী যাপন করলে পরবর্তী সময়ে সেখানে আর অতিথি যাচ্ছেন না।
জানা গেছে, প্রায় দুই একর জমিতে ১৯৯০ সালের ২৮ অক্টোবর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এ মোটেলের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। শুরুতে এক তলাবিশিষ্ট মোটেলের দৃষ্টিনন্দন একাধিক ভবন বিনোদনপ্রিয় মানুষের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিনেও মোটেল ভবনের সংস্কার না হওয়ায় অনেক কক্ষের ভেতরের ও বারান্দার ওয়ালের কোথাও কোথাও ড্যাম হয়ে ফাঙ্গাস জন্মেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যটন মোটেলে মোট কক্ষ আছে ৩৪টি। ভিআইপি রুমের ভাড়া হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, এসি (কাপোল) এবং এসি ডিলাক্স রুমের ভাড়া হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ইকোনমি বেড ৩০০ টাকা। মোটেলটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা ও কর্মচারী আছেন ৩৪ জন।
গত সোমবার সকালে সরেজমিন রংপুর পর্যটন মোটেল ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের অনেক ওয়ালে ড্যাম হয়ে ফাঙ্গাস জন্মেছে। মোটর চালু করে ব্যবহূত পানি অপসারণ করা হচ্ছে। এ সময় ব্যবস্থাপকের খোঁজে তার রুমে গেলে দেখা যায় তিনি যেখানে বসে আছেন, তার সামনের টেবিলটি অনেক পুরনো এবং কোথাও কোথাও ভেঙে গেছে।
রংপুর মহানগরের সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু তার দুই বছর আগের তিক্ত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, রংপুরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিদেশী অতিথিকে পর্যটন মোটেলে রাত্রিযাপনের জন্য রাখা হয়। কিন্তু নোংরা কক্ষে রাত্রী যাপন দূরের কথা, তেলাপোকার উপস্থিতির জন্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। পরে জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে পুলিশ প্রহরায় আরডিআরএস ভবনে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
করোনাভাইরাসের আগে পর্যটন মোটেলে রাত্রী যাপন করা এক দম্পত্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিটি কক্ষের যে ভাড়া নেয়া হয় সে তুলনায় আসবাব বিশেষ করে খাট অনেক পুরনো। ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনও সেকেলে। এছাড়া কক্ষের ভেতর ও বাইরের ওয়ালের অনেক স্থানে ড্যাম হয়ে ফাঙ্গাস ধরেছে।
রংপুর পর্যটন মোটেলের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, সম্প্রতি বন্যায় মোটেলের ভেতরে পানি প্রবেশ করেছিল। আগে থেকেই প্রধান সড়ক উঁচু। এখন আবার সংস্কার করে আরো উঁচু করা হয়েছে। সেই তুলনায় সড়কসংলগ্ন মোটেল অনেক নিচু হয়ে গেছে। দীর্ঘদিনেও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু বর্ষাকালে নয়, এখন প্রতিদিনের ব্যবহূত পানি মোটর ব্যবহার করে বিকল্প ব্যবস্থায় অপসারণ করতে হচ্ছে।
রংপুর পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক সৈয়দ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোটেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন এখানকার আয় থেকে পরিশোধ করা হয়। শুরুর দিকের আসবাব দিয়ে এখনো গ্রাহকসেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে প্রায় তিন বছর আগে শেরাটন হোটেল থেকে ১৫টি খাট এবং কিছু টেবিল আনা হয়েছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পর্যটন মোটেল লাভের মধ্যে আছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, পর্যটন করপোরেশনের সরবরাহকৃত ফার্নিচার ছাড়া মোটেলটিতে অন্য কিছু ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে বর্তমানে ব্যবহূত ফার্নিচার অনেক পুরনো। মোটেলটির সার্বিক বিষয়ে আধুনিকায়নের জন্য সর্বাত্মকভাবে সহায়তা করা হবে।










