কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে গড়াই নদের ওপর নির্মিত সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুতে টোল আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান তারা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে টোলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ফলে সেতুর দুই পাশে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মিকাইল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা দুদিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

২০০৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় গড়াই নদের ওপর ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতু নির্মাণ করে সওজ। ২০০৫ সাল থেকে সেতুটি চালু হলে ইজারাদারের মাধ্যমে টোল আদায় শুরু হয়। ২০২৪ সালের জুনে ইজারার মেয়াদ শেষ হলে সওজ বিভাগ নিজেই ‘খাস আদায়’ পদ্ধতিতে দৈনিক প্রায় ৪ লাখ টাকা রাজস্ব তুলছিল। তবে গত বছরের ৭ আগস্ট স্থানীয় জনতা টোল আদায়ের প্রতিবাদে টোল প্লাজায় আগুন দেয়।

আদায়কারীরা পালিয়ে গেলে তখন থেকে টোল আদায় বন্ধ হয়ে যায়। ১৩ আগস্ট সওজ পুনরায় টোল আদায় করতে গেলে জনতার বাধার মুখে পড়ে এবং একাধিকবার হামলার শিকার হয়। নিরাপত্তার অভাবে কর্মকর্তারা সরে গেলে টোল আদায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, আন্দোলনকারীদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। দুদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।