২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি দেখিয়েছে, অনিরাপদ সড়ক কীভাবে প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। গবেষণায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল বিশ্বরোড ও বিমানবন্দর সড়ক—এ পাঁচটি ব্যস্ত এলাকাকে দুর্ঘটনার প্রধান ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার সড়কে সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। নিহতদের মধ্যে ৫৯২ জনই পথচারী (৪২ দশমিক ৭৭ শতাংশ) এবং ৫৩৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী (৩৮ দশমিক ৭২ শতাংশ)। অর্থাৎ কেবল এ দুই শ্রেণীর ব্যবহারকারীই মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া বাস, রিকশা ও অটোরিকশার চালক-যাত্রীসহ মারা গেছেন ২৫৬ জন।
লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের সিংহভাগই পরিবারের উপার্জনক্ষম পুরুষ (১,০৩৪ জন বা ৭৪.৭১%)। পাশাপাশি ২১৯ জন নারী ও ১৩১ জন শিশু এ সড়কে প্রাণ হারিয়েছে।
দিনের আলো ফোটার আগে এবং রাতের নিস্তব্ধতায় রাজপথ সবচেয়ে বেশি রক্তাক্ত হয় বলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কেবল রাতেই ঘটেছে সর্বোচ্চ ৫১৯ মৃত্যু (৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ) এবং সকালে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৮ জন।
ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ময়লাবাহী ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এছাড়া মোটরসাইকেল ২৬ শতাংশ এবং বাস ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল।
বছরভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২০ সালে ১২৪টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জনের মৃত্যু দিয়ে শুরু হলেও বছর ঘুরে তা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন এবং ২০২৫ সালে রেকর্ড ৪০৭টি দুর্ঘটনায় ২২৯ জন প্রাণ হারান। আর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসেই ২২৩টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিপুল এ প্রাণহানির নেপথ্যে রয়েছে বেশকিছু স্পষ্ট কারণ। ঢাকায় বাইপাস সড়ক না থাকায় রাত ১০টার পর ভারী যানবাহন শহরে ঢুকে বেপরোয়া গতিতে চলতে থাকে, যা রাতের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। অন্যদিকে দিনের বেলার দীর্ঘস্থায়ী যানজট চালকদের মানসিকভাবে অতিষ্ঠ ও ধৈর্যহীন করে তোলে, ফলে সুযোগ পেলেই তারা গতি বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি অপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা, দ্রুত ও ধীরগতির যানের একই লাইনে চলাচল, হকারদের দখলে থাকা ফুটপাত এবং ব্যবহারযোগ্য ফুটওভার ব্রিজের অভাব পথচারীদের প্রাণহানি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
নগরীর সড়ককে নিরাপদ করতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে মনে করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে সংস্থাটি সুপারিশ করেছে, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে দ্রুত রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশকে এক ছাতার নিচে এসে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও অবকাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।










