সরকারি কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে গৃহীত সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার সমন্বিত উদ্যোগে মৌলভীবাজারকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

গতকাল মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সভায় উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে। জেলা পর্যায়ের পর পর্যায়ক্রমে উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে নিজের প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক থাকলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ আরো গতিশীল হবে। মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ পাশাপাশি বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরজমিনে পরিদর্শনের কথাও জানান তিনি।

মৌলভীবাজারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাদের অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনগুলো জানতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগসহ মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রবাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের বিদেশী ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলা পর্যায়ে একটি টাস্কফোর্স গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’ মাদকবিরোধী কার্যক্রমে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তথ্য থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক মাসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে অগ্রগতি যাচাই করা হবে।’ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মৌলভীবাজারকে একটি মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে সভায় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ ও মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুমেরী জামান ও উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য মো. মিজানুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আবদুর রহিম রিপনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।