চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে আমন মৌসুমে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ হলেও ৫ লাখ ৭২ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমির ফসল কেটেছেন কৃষক। এ থেকে মোট চাল উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টন। বাকি ৬ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির আমন ধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নষ্ট হওয়ায় সেখানে কোনো উৎপাদন হয়নি।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি মৌসুমে আমনের উৎপাদন এ কৃষি অঞ্চলের রেকর্ড উৎপাদন। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে এ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ১৬ লাখ ২৫ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল।

কৃষিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি, মিগজাউম এবং চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট না হলে আরো বেশি পরিমাণ ধান ঘরে তুলতে পারতেন কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৭৪০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭৪৮ হেক্টর কম। চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমে প্রাথমিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার ২৪৪ টন চাল। অন্যদিকে বছরের ব্যবধানে আবাদ বেশি হয় ৬ হাজার ৯২৩ হেক্টর জমিতে। যদিও ৬ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় মোট ফসল কর্তন সম্পন্ন করা হয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার ৯২৬ জমির। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৬ হাজার ৮১৪ হেক্টর জমির আমন ধান নষ্ট না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত।

কর্তন করা জমিতে ১৩ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের চাল উৎপাদন হয়েছে ৫৫ হাজার ৫৬৯ টন এবং গড় উৎপাদন হয়েছে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ৯৯ টন। এদিকে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৯ টন উফশী জাতের আমনে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭৩ টন চাল ও গড় উৎপাদন ২ দশমিক ৯৯ টন। এছাড়া ৬০ হাজার ৯৮৯ হেক্টর স্থানীয় জাতের আমনে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ১৮০ টন চাল এবং গড় উৎপাদন ১ দশমিক ৬৬ টন।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম জেলায় মোট আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪০ হেক্টর আমন ধান। জেলাটিতে কাটা সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯০২ হেক্টর। প্রায় ৩৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায়। কর্তন করা জমিতে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৩ টন চাল। চট্টগ্রাম জেলায় হাইব্রিডে গড় উৎপাদন হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৫ টন, উফশী ২ দশমিক ৯৯ এবং স্থানীয় জাতটির উৎপাদন ১ দশমিক ৬৫ টন। কক্সবাজার জেলায় ৭৮ হাজার ১৮৫ হেক্টরের মধ্যে কর্তন সম্পন্ন হয়েছে ৭৭ হাজার ৮০৭ হেক্টর জমির ধান। জেলায় প্রায় ৩৭৮ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০ টন চাল।

নোয়াখালী জেলায় আমনের আবাদ হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ৮১৩ হেক্টর। এখানে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৭৭ টন জমির ধান কাটা হয়েছে এবং উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৯১ টন চাল। নোয়াখালী জেলায় মোট ১ হাজার ২৩৬ হেক্টর জমির ধান প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট হয়েছে। ফেনী জেলায় ৬৬ হাজার ৭৫২ হেক্টরের মধ্যে ৬৬ হাজার ৭২৩ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৩৯৫ টন চাল এবং ২৯ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। এছাড়া সর্বশেষ লক্ষ্মীপুর জেলায় ৮৩ হাজার ৫০ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৭ হাজার ৯১৭ হেক্টর জমির আমন ধান কাটা হয়েছে। জেলাটিতে চূড়ান্ত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৭ টন চাল। চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৩৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলায়।

বিগত বছরগুলোর আমন উৎপাদনে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬ টন চাল। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫ লাখ ৯২ হাজার টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১৬ লাখ ২৫ হাজার ১ টন এবং সর্বশেষ গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ১৬ লাখ ১ হাজার ৭৮৪ টন চাল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২২ টন।

চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলার ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে। আমন আবাদের শুরুর দিক থেকে কাটা পর্যন্ত তিন দফায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। চলতি বোরো মৌসুমে এ অঞ্চলে উৎপাদন কীভাবে বাড়ানো যায় সেটা নিয়ে কাজ করছি।’