মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার পথে এক যুবকের মৃত্যু ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল ভোরে তাদের হবিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীধরপাশা গ্রামের মৃত আছদ্দর আলী ছেলে আবুল মিয়া (৫০) ও তার স্ত্রী আছমা বেগম (৪০)। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবু সাঈদ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের মো. তরিকুল ইসলামের ছেলে একওয়ান ইসলামকে ইতালি পাঠানোর জন্য গত বছর চুক্তি করেন আবুল মিয়া। প্রবাসী ছেলে আলী হোসেনের মাধ্যমে ১৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই তরুণকে ভিজিট ভিসায় ইতালি পাঠানোর কথা ছিল। এরপর তাকে প্রথমে দুবাই নেয় দালাল চক্র। দুবাই থেকে ইতালি না পাঠিয়ে লিবিয়ায় অবস্থানরত আলী হোসেন ও তার আত্মীয় সালেহ আহমদের কাছে নিয়ে আটকে রাখা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে একওয়ানকে ইতালি না পাঠিয়ে তার বাবা তরিকুল ইসলাম দেশে পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই একওয়ানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন নেমে আসে। তা সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তরুণ। একপর্যায়ে গত ১৬ জুন ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২৯ সেপ্টেম্বর নিহতের লাশ দেশে আসে। পরদিন একওয়ানের মৃতদেহ ও মৃত্যুসংক্রান্ত কাগজপত্র পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে ৩ অক্টোবর তরিকুল ইসলাম মানবপাচার আইনে চারজনের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুস ছাত্তার পুলিশের দুটি টিম নিয়ে সিলেট ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হবিগঞ্জের মোহনপুর এলাকা থেকে আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে গ্রেফতার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা, সাতটি মোবাইল, একটি এটিএম কার্ড, দুটি ব্যাংক চেক ও একটি লিবিয়ার ভিসা লাগানো পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশ) আবু সাঈদ বলেন, মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের পর থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছে মানবপাচারের আলামত পাওয়া গিয়েছে। লিবিয়ার ভিসাসহ পাসপোর্টও পেয়েছি।










