তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্যান্সারসহ নানা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে।’
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে সংস্থাটির গভর্নিং বডির ষষ্ঠ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএআরসির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। প্রাকৃতিক বা জৈব সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছও নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে।
মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ার বিষয়েও উদ্বেগ জানান কৃষিমন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ পানি, সার নাকি কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে, তা গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণার পরিধি ও কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে।’
কৃষকসহ অন্যান্য উপকারভোগীর কাছে ফসল উৎপাদনসংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ সহজে পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপের ব্যবহার আরো জনপ্রিয় করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং বিএআরসির গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বাড়াতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবন কীভাবে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগানো যায়, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলওয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।










