সিলেট সরকারি এমসি কলেজের নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের কাজ ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এখনো ভবনটির কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেছে। এরই মধ্যে দুই দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবু যেন শেষ হচ্ছে না ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ। যদিও অভিযোগ রয়েছে, একটা পক্ষের চাঁদা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিছিয়েছে নির্মাণকাজ।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১৪ সালে এমসি কলেজের ১০ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ভবনটি নির্মাণের কাজ পায় পান্না এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট ১২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (লিফট ও ফার্নিচারের আলাদা বাজেট) বাজেটের এ একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তখন কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। নানা জটিলতায় নির্মাণকাজ শুরু হয় আরো ৩ বছর পর ২০২০ সালের শুরুর দিকে। তবে রাজনৈতিক একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করলে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু হয়নি বলে জানায় প্রকৌশল কর্তৃপক্ষ।
সিলেট সরকারি এমসি কলেজের ভবনগুলো ছিল ঐতিহ্যে মিশেল। বাংলো প্যাটার্নের একাডেমিক ভবনগুলো ছিলো দৃষ্টিনন্দন। এরপর বিএনপি তথা জোট সরকারের আমলে কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর দিকের শেষ প্রান্তে নির্মিত পাঁচতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনটি ছিল সর্বোচ্চ ভবন। তবে সর্বশেষ যে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেটিই হচ্ছে কলেজের সর্বোচ্চ ভবন।
এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরের প্রধান সড়কের পাশে ও পুকুরের উত্তর পাড়ে ভবনের অবস্থান। ১০ তলা ভবন নির্মাণের আগে সেখানে ছিল ছাত্র মিলনায়তন, ক্যান্টিন ও স্পোর্টস রুম। সেগুলো ভেঙে নির্মাণ করা হয় এ ভবন। এর পর থেকেই কলেজে আর কোনো ছাত্র মিলনায়তন, ক্যান্টিন ও স্পোর্টস রুম হয়নি। অবশ্য ভবনটি নির্মাণের আগে থেকেই কলেজের ক্যান্টিন বন্ধ ছিল। একসময় কলেজের ছাত্র মিলনায়তনে ছোট পরিসরে সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান করলেও এখন উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠান করা ছাড়া গত্যন্তর নেই তাদের।
জানা গেছে, নতুন এ ভবনের নিচতলায় রয়েছে দুটি সেমিনার কক্ষ এবং প্রতি তলায় চারটি করে শ্রেণী কক্ষ। শিক্ষার্থীদের জন্য জন্য প্রতি তলায় তিনটি করে ওয়াশ রুম রয়েছে এবং ছেলেদের প্রস্রাবখানা দুটি। ভবনের দুই পাশে দুটি লিফট রয়েছে, যার মাধ্যমে খুব সহজেই ১০ তলায় ওঠা সম্ভব। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের জন্য আলাদা একটি রুম রয়েছে। তবে শব্দদূষণ রোধে এটি ১০ তলা ভবনের পাশে নির্মাণ করা হবে বলে জানান এমসি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ভবনটিতে একটি ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশন থাকবে। ভবনটির কার্পেট এরিয়া ৭ হাজার ৪০০ বর্গফুট ও বিল্ডআপ এরিয়া ৮ হাজার বর্গফুট। নতুন ভবনটিতে স্থান পাবে কলেজের ইংরেজি, পরিসংখ্যান ও ইসলাম শিক্ষা বিভাগ। এছাড়া এখানে ক্লাস হবে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও ইতিহাস বিভাগের। স্থান পাবে আইসিটি ল্যাব।
অন্যদিকে ভবনটি নির্মাণে ধীরগতির জন্য ক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আবুল ফজল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়র সময় থেকেই শুনছি ভবন হচ্ছে, অনার্স শেষ হওয়ার পরও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণকাজ।’
অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবনটি দ্রততম সময়ের মধ্যে স্থানান্তরের জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। তারা আগামী জুনের মধ্যে ভবনটি হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যথাসময়ে কাজ শুরুই করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একটি পক্ষ চাঁদা দাবি করলে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।’
১০ তলা ভবনের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার রায়হান উদ্দিন জানান, ভবনটির কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। ভবনটির প্রতি রুমে দরজা লাগানো শেষ হয়েছে। আর ভবনটির প্রতি তলায় বেসিন, কমোড, টয়লেট ফিটিং, জানালার গ্লাস লাগানো, ফ্যান-লাইট, ফিনিশিং বাকি রয়েছে। তবে বাজেট পাওয়া যাচ্ছে না বলে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। বাজেট পেলেই কাজ শেষ করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এমসি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক আশরাফুল কবীর বলেন, ‘শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আগামী জুনে ভবনটির কাজ সম্পূর্ণ করতে পারবে বলে জানিয়েছে। এরপর দ্রুততম সময়ে আমরা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’










