নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পুরাতন ছয়ানী থেকে যুগীখালী পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এ সড়কের বেশির ভাগ অংশে নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহার করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তদের অভিযোগ, কাজে বাধা দেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও করেন ঠিকাদার। 

সরেজমিনে দেখা দেখা যায়, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক পুরনো ছয়ানী-যুগীখালী সড়ক। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি পাকাকরণ হয় ১৯৯৭ সালে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সড়কটি খানাখন্দে ভরে যায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাসহ নানা কারণে প্রায় ২০ বছর এ সড়কে দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করেছে হাজারো মানুষ। 

সর্বশেষ গত অর্থবছরে সড়কটি পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। দুই ধাপে টেন্ডার প্রক্রিয়াও শেষ করা হয়। শুরু হয় ১ হাজার ৬০০ মিটারের সংস্কারকাজ, কিন্তু কাজের শুরুতেই বাধা দেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, পুরনো ছয়ানী থেকে রামেশ্বরপুর অংশের পুরো কাজেই নিম্নমানের ইট ও বালি ব্যবহার করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কিছু স্থানে প্যালাসেটিং দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি, প্রস্থেও রয়েছে কম। প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজির মামলা দেয়ার হুমকি দেয়া হয় স্থানীয়দের।

স্থানীয় গোলাম হায়দার বলেন, গত সপ্তাহে কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। শুরু থেকেই নানা অনিয়ম দেখতে পান তারা। নির্দিষ্ট পরিমাণ বালি দেয়া হচ্ছে না, ইটের খোয়া যেগুলো দেয়া হচ্ছে তা আকারে অনেক বড়। আবার ইটও মানহীন। ফলে পায়ের চাপেও ভেঙে যাচ্ছে ইটগুলো। রিকশা গেলেও ইটের খোয়াগুলো গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। 

নাঈমুল হাসান নামে আরেকজন বাসিন্দা জানান, পুরো কাজই অনিয়মের মধ্যে হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার হচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে বাধা দিলে ঠিকাদার স্থানীয়দের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ এনে মামলা দেয়ার হুমকি দেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। কিন্তু এলজিইডির কর্মকর্তাদের নির্দেশ না শুনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পুনরায় কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা শনিবার সড়কে বিক্ষোভ করেন। 

ছয়ানী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান জানান, স্থানীয়রা তাকে অভিযোগ করলে বিষয়টি তিনি এলজিইডিকে অবহিত করেছেন। এজন্য ঠিকাদার ও তার লোকজন এলাকার বাসিন্দাদের মারধর এবং চাঁদাবাজির মামলা দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌সরকার উন্নয়নকাজ করছে, কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে সরকারের অর্থের অপচয় হলেও কাজের মান ভালো হচ্ছে না।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার আমেনা বেগম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘এলাকাবাসী খামোখা তার কাজে বাধা দিচ্ছে। তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। তার পরও যদি কর্তৃপক্ষ মনে করে কোনো সমস্যা হচ্ছে তাহলে তা পরিবর্তন করা হবে।’

এ বিষয় জানতে চাইলে এলজিইডির বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাফিজুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন পরিদর্শন করা হয়। সেখানে মেকাডমগুলো নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তাই ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে পুনরায় সেগুলো ফেলে দিয়ে মানসম্মত ইট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’