কোটা প্রথার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাসটার্মিনাল এলাকা ও চৌমাথা এলাকায় দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সংঘর্ষে আহত হয়ে ২২ জন শিক্ষার্থী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সজিব। তিনি জানান, আহতরা রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টার, টিয়ার সেল ও ইটের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

বুধবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড সড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ শুরু করেন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে সকাল ১০টার দিকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

এ কারণে মহাসড়কের দুইপাশে আটকে পড়া যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়িসহ জরুরি সেবার যানবাহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটাতে দেখা যায়নি শিক্ষার্থীদের। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা যৌক্তিক দাবি তুলে আন্দোলন করছেন।

এদিকে বেলা ১২ টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডেকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে ৬ জন নিহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। মেডিকেল কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

শিক্ষার্থীরা দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ করায় অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, যানবাহন ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সড়কে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ব্যবহার করা হয়েছে।