১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক এবং ১০৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ওয়াবদা খালের বাঁধের ওপর দিয়েই চলাচল করতেন। যে পথ দিয়ে তারা যাতায়াত করতেন, সেখানে এখন বসতি স্থাপন করা হয়েছে। সম্প্রতি সরজমিন দেখা যায়, স্কুলে যাওয়ার বিকল্প উপযুক্ত রাস্তা না পেয়ে শিক্ষার্থীদের গাছতলায় বসিয়ে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক শাহ্ আলম বলেন, ‘১৯৮৮ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে আমরা চারজন শিক্ষক এখানে পাঠদান শুরু করি। পরে বিদ্যালয়টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়, এরপর ২০১৩ সালে এটিকে সরকারিকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল ওয়াবদা খালের বাঁধ, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ।’

স্থানীয়রা জানান, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সেকেন্দার আলী বিদ্যালয়ের জন্য ৩৫ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। স্কুলে যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল ৩১৩৫ ও ৩১৩৬ দাগের ওপর দিয়ে যাওয়া বাঁধটি। এর মধ্যে ৩১৩৬ দাগ ছিল সরকারি খাসজমির অন্তর্ভুক্ত।

২০১৬ সালে অষ্টমীর চরের জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে ভূমিহীন দেখিয়ে ৩১৩৬ দাগে ১৫ শতাংশ এবং ৩১৩৭ দাগে ২১ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তার শ্যালক কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ইউএনও মো. মাইদুল ইসলামের প্রভাব খাটিয়ে বন্দোবস্তকৃত জমির বাইরে আরো উত্তরের ৩১৩৫ দাগও দখলে নেন এবং সেখানে বসতি গড়ে তোলেন। ফলে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা রাস্তা বন্ধ করিনি। রাস্তার জন্য বরাদ্দ এলে প্রয়োজনীয় জায়গা ছেড়ে দেব।’

1000065245

খাস জমি ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে স্কুলে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। ছবি— বণিক বার্তা

পূর্ব চর পাত্রখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন ও সুম্মা খাতুন জানায়, রাস্তা না থাকায় তাদের পাশের দুটি বাড়ির ভেতর দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। বাড়ির পাশে বড় গর্ত। বর্ষাকালে এসব গর্ত পানিতে ভরে থাকে। অনেকে ভয় পেয়ে অনেক সময় স্কুলেই যেতে চায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. রিয়াদ বিন রানু বলেন, ‘স্বাভাবিক যাতায়াতপথ না থাকায় শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে রাস্তায় পাঠদান করা হচ্ছে।’

1000065244

পাঁচ বছর ধরে চলা এ ভোগান্তির কোনো সমাধান পাচ্ছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ছবি— বণিক বার্তা

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর আলী বলেন, ‘সরকারি জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পথ বন্ধ করা চরম ধৃষ্টতা। রাস্তার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আমিও সহিংসতার শিকার হয়েছি।’

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাককে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘স্কুলের রাস্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। সরেজমিন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, খুব শিগগিরই স্কুলের জন্য বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হবে।’