খেলাপি হিসাবের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। সংগঠনটি গত বছরের নভেম্বর থেকে সময়সীমা বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে সহযোগিতা চান বিজিএমইএ নেতারা। আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিএমইএর পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সহ-সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং জনসংযোগ ও প্রচার কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন তপাদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল একাধিক বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করে। এর মধ্যে রয়েছে বিআরপিডি সার্কুলার-০৭/২০২৫-এর আওতায় খেলাপি হিসাবের সময়সীমা নভেম্বর ২০২৫ থেকে বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারণ।

সংগঠনটির মতে, এতে করে নতুনভাবে অনেক রুগ্ন ও সমস্যাগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তার আওতায় আসতে পারবে, যা তাদের ব্যবসা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

বিজিএমইএ সংশ্লিষ্টরা আরো মনে করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে অ-পরিশোধিত ঋণ (এনপিএল) কমবে এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত নীতি সহায়তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। সভায় জানানো হয়, অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংক সময়মতো ও যথাযথভাবে এসব নীতি বাস্তবায়ন না করায় যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে শিল্প উৎপাদন বাড়বে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় লাভজনক অবস্থায় ফিরতে পারবে।

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা চায় বিজিএমইএ। সংগঠনটির মতে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাগুলোর সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের স্বার্থে সময়সীমা বৃদ্ধি জরুরি। এতে বাস্তবভিত্তিক ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন সহজ হবে এবং কার্যকর পুনর্বাসন ও পুনরুজ্জীবন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলের উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।