রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী থানা এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (রাড্ডা ক্লিনিক) হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘এ ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হচ্ছে।’

গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনাটি সরজমিনে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ এরই মধ্যে ৯ জন আসামিকে গ্রেফতারসহ বেশ কিছু মালামাল ও আলামত উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।’

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে ‘চাঁদাবাজির’ যে অভিযোগ উঠেছে, তাকে ‘ঢালাও মন্তব্য’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রাথমিক তদন্তের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, জমিজমা-সংক্রান্ত দুই পক্ষের বিরোধের মধ্যে পড়ে সালমান মুক্তাদির অনিচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে তদন্ত, মামলা ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান এ কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এ ভাংচুরের ভিডিও নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় এ ঘটনার পেছনে বিএনপির সম্পৃক্ততা ও ‘চাঁদাবাজির’ অভিযোগ এনে নানা বক্তব্য দেন।

ঘটনার নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে মূলত একটি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। সেই জমি দখলের উদ্দেশ্যে এক পক্ষের হয়ে কিছু লোক সেখানে যায় এবং ভাংচুর চালায়। ওই জমিতেই সালমান মুক্তাদিরের কনটেন্ট ক্রিয়েশনের একটি স্থাপনা ছিল, যা হামলার মুখে পড়ে। আমরাও ভিডিওতে ভাংচুরের বিষয়টি দেখেছি।’

এদিকে, বাংলাদেশের সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন।

বৈঠকে সিঙ্গাপুর মিশনের নতুন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ ওং, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিঙ্গাপুর মিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি ধান্য লিঙ্গেশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাণিজ্য পরিধি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বিদ্যমান সম্পর্ক আরো জোরদার করতে শিগগিরই বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ হাইকমিশনার নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সীমান্ত নিরাপত্তা আধুনিকীকরণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশের সুদীর্ঘ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমান্ত ও বিমানবন্দরগুলোতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।’ এছাড়া উগ্রবাদ মোকাবেলা, পুলিশের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।