দেশে সবজি উৎপাদনের বড় মৌসুম মূলত তিনটি—রবি, খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম। এর মধ্যে রবি মৌসুমে তেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় সবজি উৎপাদন বেশি হয়। এ কারণে সে সময় সবজির দামও কম থাকে। বাকি দুটি সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি থাকে। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশীদের চাহিদাকে সামনে রেখে বারোমাসি সবজি আবাদ শুরু হয়েছে। পলিনেট হাউজে উৎপাদিত সবজির মধ্যে রয়েছে ক্যাপসিকাম, লেটুস। এছাড়া উৎপাদন করা হচ্ছে সবজির বীজ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প এ প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করেছে। পাবনা ছাড়াও রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলায় এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

পলিনেট হাউজ মূলত উন্নতমানের পলি ওয়েলপেপারে আবৃত চাষযোগ্য কৃষি ঘর। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা করে নিরাপদ ফসল উৎপাদনের আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তি প্রয়োগে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে বছরব্যাপী উচ্চমূল্যের ফসল ফলানো যায়। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ফসল প্রাকৃতিক দুর্যোগেও নিরাপদ ও অক্ষত রাখা যায়। পলিনেট হাউজে আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকায় ফল-ফসল ও সবজি চারা আগাম উৎপাদন করা সম্ভব।

চাষীরা বলছেন, এ পদ্ধতিতে তারা শুধু সবজি আবাদই করেন না, বীজও উৎপাদন করেন। সেসব বীজ তারা প্রকল্পবহির্ভূত কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। এর মধ্যে লেটুস পাতা উল্লেখযোগ্য। যেটা রাশিয়ানসহ বিদেশীদের প্রিয় খাবার বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ড. এসএম হাসানুজ্জামান বলেন, ‘যেকোনো আবহাওয়ার জন্য পলিনেট প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। এ প্রযুক্তিতে অতি ও অনাবৃষ্টিতেও ফসলের কোনো ক্ষতি হয় না। পলিনেটের মাধ্যমে ভেতরে থাকা ফসল আলো-বাতাস প্রয়োজনীয় মতো পেলেও বৃষ্টি থেকে ফসলকে রক্ষা করে। পলিনেটের ভেতর পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফসলের যতটুকু পানি দরকার ততটুক দেয়া যাবে। এ পদ্ধতিতে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।’