সামান্য বৃষ্টি হলেই যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১১২ ঘরের বাসিন্দারা থাকেন আতঙ্কে। কেননা অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ঘরগুলোয় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাই রাখা হয়নি। আবার ঘরের বারান্দার উচ্চতা ও রাস্তা সমান হওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরে ঢুকে পড়ছে। খাবার পানি সংকটও রয়েছে। নেই কোনো ডাস্টবিন। এসব সমস্যার কারণে কয়েকটি পরিবার তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছে ঘর দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. হারুন বলেন, ‘প্রকল্পের মধ্যে কোনো রাস্তা ও ড্রেন নেই। তাই বৃষ্টি হলেই পানি ঘরে উঠে যায়। টিউব ওয়েলের পানিতে আয়রন রয়েছে। পানি খাওয়া যায় না। বাইরে থেকে পানি আনতে হয়। শুনেছি সাবমার্সিবল বসানো হবে। তখন হয়তো পানি আমরা ব্যবহার করতে পারব।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া সোহরাব হোসেন বাদশা বলেন, ‘ঘর ছোট হওয়ায় আমি ছোট ভাইকে দিয়ে, ভাড়া বাসায় থাকি। এখানে পানি বের হওয়ার কোনো ড্রেন নেই। এক ঘরের সামনে আরেক ঘরের ব্যবধান মাত্র চার ফুট। মাঝখানে সরু রাস্তা দিয়ে চলাচল করাই দায়। এত মানুষের বসবাস হলেও করা হয়নি মসজিদ। তবে আমরা সবাই মিলে মসজিদ করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ বাদশার মতো শফি, রাজিম, মেনি ও ফতে নামে কয়েকজন তাদের ঘর ছেড়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।
যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চাঁচড়ায় ১০০টি ঘর ভূমিহীনদের দেয়া হয়। পরে সেখানে আরো ১২টি ঘর তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন সেখানে ১১২টি পরিবার বসবাস করে। প্রকল্পের নাম দেয়া হয় শতবর্ষ প্রকল্প।
যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান জানান, সরকারের এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তবে ঘরগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে করা হতো তাহলে বাসিন্দারা বসবাস করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বর্ষায় যদি পানি ঘরে ঢুকে যায়, তাহলে বসবাস কীভাবে করবে। অবশ্যই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ডাস্টবিন থাকা উচিত ছিল।’
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপ দাশ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চাঁচড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১১২টি পরিবার বসবাস করে। এছাড়া সদরে মোট তিন ধাপে ৫৪১টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আরো ৫৫টি ঘর বরাদ্দ এসেছে। এ ঘরগুলো সবই খাসজমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে কোনো জায়গায় রাস্তা ও ড্রেনের সমস্যা রয়েছে। আর কিছু ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমরা বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে সেগুলো নির্মাণ করার চেষ্টা করছি। কেউ যদি নিজের নামে বরাদ্দকৃত ঘর পরিবার ছাড়া অন্য কাউকে বসবাস করতে দেয় সেটা অন্যায়। আমরা খোঁজ নিয়ে তাদের সরিয়ে দেব।’










