টেস্ট ও টি২০-তে হারের ক্ষতে প্রলেপ দেয়ার সুযোগ এসেছে ওয়ানডে সিরিজে জয় দিয়ে। গায়ানায় আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলেই সিরিজ বাংলাদেশের। উজ্জীবিত টাইগাররা আরেকটি জয়ের আঁচড় এঁকে দিলেও সেটি স্বাভাবিকই দেখা হবে। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে শেষ নয় ম্যাচে টানা জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সিলেটে শুরু হয় এ জয়যাত্রা। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতলে এ যাত্রা হবে আরো সমৃদ্ধ, সঙ্গে লাল-সবুজ জার্সিতে লেখা হবে আরেকটি সিরিজ জয়ের গল্প। গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হবে। দেশীয় টিভি চ্যানেল টি-স্পোর্টস খেলাটি সম্প্রচার করবে।
বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ নিয়ে ১১তম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে। আগের ১০টি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে ৫টিতে, বাংলাদেশও জিতেছে ৫টিতে। তামিম-মাহমুদউল্লাহদের সামনে সুযোগ এসেছে পাল্লা ভারী করারও। ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সর্বশেষ ৩টি সিরিজই জিতেছে বাংলাদেশ।
তবে এত হিসাব-নিকাশ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিজের সীমিত ওভারের অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজই সিরিজ জিতবে বলে মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে পুরান বলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে আমরা শেষ কয়েকটি ওয়ানডে সিরিজে হেরেছি। তবে আমার মনে হয় ১-০-তে পিছিয়ে থাকলেও এ সিরিজটা আমরা জিতব। পরবর্তী ম্যাচের জন্য আমরা প্রথম ম্যাচটা নিয়ে ভেবে দেখব। ভালো পরিকল্পনা করব এবং অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াব।
অন্য দুই সংস্করণের চেয়ে ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ভালোই নিজেদের চেনাতে পেরেছে। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে তামিমের দল। আফগানিস্তানকে ঘরের মাঠে ২-১ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এরপর প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে থাবা বসিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ ছিনিয়ে আনে টাইগাররা।
২০১৮ সালে মাশরাফি বিন মর্তুজার হাত ধরে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ফিরেছিল বাংলাদেশ। এর আগে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে ২০০৯ সালেও জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। ব্যাটে-বলে এবারো আত্মবিশ্বাসী সফরকারীরা।
সিরিজ শুরুর আগে যদিও বাংলাদেশ শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছিল। কারণ ছুটি নেয়ায় এ সিরিজে নেই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। অন্যদিকে অভিজ্ঞ মিডলঅর্ডার ব্যাটার মুশফিকুর রহিম হজ পালনের জন্য ছুটি নেয়ায় দলে নেই।
তবে প্রথম ম্যাচে দলীয় পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়তে দেননি ক্রিকেটাররা। পেসার মুস্তাফিজ-তাসকিন-শরিফুল ত্রয়ীর সঙ্গে স্পিন ঘূর্ণিতে ক্যারিবিয়ানদের বেসামাল করেছেন মিরাজ-নাসুমরা। প্রথম ম্যাচ জয়ে শরিফুল ইসলাম নিয়েছিলেন চারটি উইকেট, সঙ্গে মিরাজ নেন তিনটি। ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসানরা রেখেছেন অবদান।
সম্প্রতি মাহমুদউল্লাহর পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যায়। কিন্তু প্রথম ম্যাচে ৪১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তাই সাইলেন্ট কিলারের বিষয়টি অন্যভাবে দেখছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
প্রথম ওয়ানডে শেষে সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ৩, ৪, ৫ নম্বর ব্যাটসম্যান ছিল না (সাকিব, মুশফিক ও ইয়াসির) রাব্বীসহ। এ তিনজন খেলোয়াড় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রিয়াদ ভাইয়ের জন্য ২৫-৩০ রানও অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। এক-দুটি ব্যর্থতার পর আমরা যখন পেছন ফিরে তাকাই তখন শুধু ২৫ রান, ২৮ রান দেখি। কিন্তু ওই রানের গুরুত্ব অনেক বেশি থাকে।
গায়ানায় এর আগে চারটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে লাল-সবুজরা।








