বাংলাদেশে
আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য কক্সবাজারের কুতুপালং, উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্প নির্মাণ করা হয়। ক্যাম্পগুলোয় রোহিঙ্গাদের অস্থায়ী আবাসন নির্মাণে বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে
ঘর তৈরি করে দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। আবাসনে ব্যবহৃত এসব বাঁশের স্থায়িত্ব দীর্ঘমেয়াদি করতে নির্মাণ করা হয়েছে ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। অস্থায়ী এসব ঘর নির্মাণে চাহিদা
বেড়েছে উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি বাঁশের।
এ ট্রিটমেন্ট প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট
(বিএফআরআই)।
বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ বাঁশ এবং ট্রিটমেন্ট করা বাঁশের স্থায়িত্বে বিস্তর ফাঁরাক আছে। আবাসনে সাধারণ বাঁশ কয়েক মাস ব্যবহার হলেও ট্রিটমেন্ট করা বাঁশ ১০-১৫ বছর ব্যবহার করা যায়। রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারে বাঁশের চাহিদাও বেড়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে বাঁশের দাম বেড়েছে। জোগান দিতে ওই অঞ্চলে বাঁশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়িয়েছে অনেকেই।
বিএফআরআইয়ের বন রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মো. জাকির হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পর আবাসনের জন্য বাঁশের ব্যবহার বেড়েছে কয়েক গুণ। যেহেতু তাদের স্থায়ীভাবে আবাসন করা হচ্ছে না, সে কারণে বাঁশ এবং ত্রিপল ব্যবহার করে আবাসন তৈরি করা হচ্ছে। খুঁটির জন্য বাঁশ দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে উপোযোগী করা হয়। ট্রিটমেন্ট করার কারণে বাঁশ কয়েক বছর ব্যবহার করা সম্ভব। এ বিষয়ে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে বিএফআরআই সহায়তা করছে।’
বিএফআরআইয়ের তথ্যমতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পর কক্সবাজারে গড়ে ওঠা ক্যাম্পগুলোয় অস্থায়ী আবাসনের দিকে নজর দিয়েছে সরকার ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো। এজন্য বাঁশের তৈরি ঘর নির্মাণকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কাঁচা বাঁশ দিয়ে সরাসরি ঘর নির্মাণ করলে সেগুলো টেকসই হয় না। এ কারণে ট্রিটমেন্ট প্লান্টের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করে সেই বাঁশ দিয়ে ঘর নির্মাণ হলে কয়েক বছর স্থায়ী হয়। সব ধরনের বাঁশ ট্রিটমেন্ট করা হলেও মূলত বোরক ও বাইজ্যা প্রজাতির বাঁশের চাহিদা কক্সবাজারের আবাসনের জন্য বেশি। এ জাতের বাঁশ মোটা হওয়ায় ব্যবহার উপযোগিতা বেশি। মূলত দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম নীলফামারী, লালমানিরহাটসহ রংপুর বিভাগে এ বাঁশ বেশি পাওয়া যায়। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় মুলি বাঁশ, বাইজ্যা বাঁশ পাওয়া যায়। এসব বাঁশ সংগ্রহ করার পর কক্সবাজারে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাঁশগুলো ট্রিটমেন্ট করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ করা হয়।
দেশে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বাঁশের বিভিন্ন ট্রিটমেন্ট প্লান্টে শুরু থেকেই কাজ করছেন বিএফআরআইয়ের কাষ্ঠ সংরক্ষণ বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার আব্দুস সালাম। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বাঁশের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার নিয়ে বিএফআরআই শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেছে। তবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা আসার কারণে তাদের আবvসন নিশ্চিতে বাঁশের ব্যবহার বেড়েছে। বিভিন্ন কেমিক্যালের মিশ্রণের সঙ্গে সলিউশন তৈরি করে বাঁশ ভিজিয়ে সেগুলো দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত করা হয়। এ সলিউশনগুলো বারবার ব্যবহার করা সম্ভব। পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয় না।’
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় বাঁশ সরবরাহকারী কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, তারা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে বোরাক জাতের বাঁশ বেশি সংগ্রহ করেন। একেকটি বাঁশ পরিবহনসহ মানভেদে খরচ পড়ে ২৭০-২৯০ টাকা। এসব বাঁশ বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়। আগের তুলনায় এখন উত্তরবঙ্গে বাঁশের দাম বেড়েছে অন্তত ৪০ শতাংশ।










