তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজকে নিছক একটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে না দেখে পরিবেশ, মানুষ ও নদীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘পদ্মা ব্যারাজ: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। নীতিসংক্রান্ত এ সংলাপের আয়োজন করে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ)।
দেশের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ইতিহাস ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ‘১৯৭৭ সালের গঙ্গা চুক্তির মাধ্যমে নদী ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রথম বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন এ খাতে স্থবিরতা ছিল। ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আবার নতুন এক যাত্রার সূচনা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের দাবি ও পরিবেশগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রকল্পের নকশায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।’
ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘উজানের নদীগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৯৪২টি পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো রয়েছে। এ অবস্থায় ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা ও আন্তর্জাতিক অধিকার আদায়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এগোতে হবে।’
আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করেই সরকারের নীতি-কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের গঠনমূলক সমালোচনাকে সরকার সবসময় ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।’
আলোচনায় জানানো হয়, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট পরিবেশবান্ধব জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ব্যারাজকে কেন্দ্র করে সাতটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশগত সংকটের কথা উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে আশঙ্কাজনকভাবে লবণাক্ততা বেড়েছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।’
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় প্রকল্পের কারিগরি, পরিবেশগত ও টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দেন অংশগ্রহণকারীরা। এতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গবেষক, পানি বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন।










