বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় এক পুলিশ সুপারসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার ( ১১ জুলাই) দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম এটি দাখিল করেছেন।
আসামিরা হলেন, মাদারীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার বর্তমানে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত সুব্রত কুমার হালদার, বরখাস্ত সাবেক কনস্টেবল নুরুজ্জামান সুমন ও জাহিদুল ইসলাম; মাদারীপুর জেলা পুলিশ হাসপাতালের সাবেক মেডিকেল সহকারী পিয়াস বালা ও সাবেক টাউন সাব-ইনস্পেকটর (টিএসআই) গোলাম রহমান।
চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, সুব্রত কুমার হালদার ১৭ জন প্রার্থীর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা ঘুস গ্রহণ করেন। ওই টাকা থেকে নুরুজ্জামান সুমন, পিয়াস বালা ও জাহিদুল ইসলামের সহায়তায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঘুস নিজ হেফাজতে নেন। তারা ঘুস গ্রহণ করে অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সার্কুলার/শর্তাবলী লঙ্ঘন করে পেনাল কোডের ১৬১/৪২০/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর জব্দ করা ৩২টি লিখিত পরীক্ষার খাতা ও আনুষঙ্গিক রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে দুদক বলছে, ৩২ জন চাকরিপ্রার্থীর পরীক্ষার খাতার প্রথম পৃষ্ঠার নিচে ডান কর্নারে তিন ধরনের বিশেষ চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের পাস করানোর অসৎ উদ্দেশে এ চিহ্ন দেয়া হয়েছে। তাদের খাতার ইংরেজি অংশে কিছুটা অতি মূল্যায়ন (বেশি নম্বর) করা হয়েছে। এসপি সুব্রত কুমার হালদারের বডিগার্ড নুরুজ্জামান সুমনসহ অন্যান্য আসামিদের ঘুস গ্রহণ ও জব্দ ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এসপির উপস্থিতিতে চাকরিপ্রার্থীদের ফেরত, লিখিত পরীক্ষার একটি প্রশ্নপত্র সম্বলিত সাজেশন তৈরি ও সরবরাহ করা এবং পরীক্ষায় সাজেশন থেকে কমন পড়ার প্রমাণ মিলেছে। তারপরও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
দুদকের এজাহারে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৬ হাজার ৮০০ জন পুরুষ ও ২ হাজার ৮৮০ নারীসহ মোট ৯ হাজার ৬৮০জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ দিতে ২০১৯ সালের ২৮ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে ঢাকা রেঞ্জের মাদারীপুর জেলায় ১৬ পুরুষ, সাধারণ নারী ৩ , বিশেষ কোটায় ১৫ ও ২০ জন নারীসহ মোট ৫৪ জন কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন মাদারীপুর পুলিশ সুপার (এসপি) সুব্রত কুমার হালদার। প্রথম ধাপের পরীক্ষা শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ইংরেজি অংশের প্রশ্ন প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন সুব্রত কুমার হালদার। ২৬ জুন নিয়োগের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৫৪ জন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। নিয়োগ চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘুসের ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স প্রাথমিকভাবে তদন্ত করে। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য দুদকে পাঠায়।










