ঘূর্ণিঝড় মিধিলিতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে প্রায় ৯১ হাজার ৬৫৩ কৃষক বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার কারণে আমন, শীতকালীন সবজি ও সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের প্রায় ৫৯ হাজার ২১৭ হেক্টর জমির বিভিন্ন জাতের ফসল কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্টে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও নোয়াখালী জেলায় আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা পাওয়া গেছে ৯১ হাজার ৬৫৩ জন। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় সর্বোচ্চ ১২৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ২০ হাজার টাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪২ হাজার ২৩০ জন। নোয়াখালী জেলায় ৫৩ কোটি টাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৪২ হাজার ৪৬৩ জন। চট্টগ্রাম জেলায় ১৪ কোটি টাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ১ হাজার ৯৬৬ জন। কক্সবাজার জেলায় আর্থিক ক্ষতি ৪ কোটি ২০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৮৬৭ এবং ফেনী জেলায় ১ কোটি ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৪০০ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ হাজার ১৪৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ৯০০ হেক্টর, কক্সবাজারে ৩৫৬, নোয়াখালীতে ৩১ হাজার ৬৩১, ফেনীতে ৩০৮ এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৯ হাজার ৯২১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জেলাগুলোয় প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে ক্ষতিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’










