পুষ্টিগুণ থাকায় অ্যাভোকাডোর চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। বিক্রিও হচ্ছে চড়া দামে। কীটনাশক লাগে না। পরিচর্যায়ও তেমন খরচ নেই। ঝিনাইদহে এ ফল চাষে আগ্রহ রয়েছে কৃষকের। জেলায় তিন হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে ফলটি। প্রথমে ফলের চাষ শুরু করেন কোটচাঁদপুর উপজেলার কাগমারি গ্রামের হারুন-অর-রশিদ। তার দেখাদেখি আরো কয়েকজন অ্যাভোকাডো চাষ করছেন।
উদ্যানতত্ত্ববিদরা বলছেন, অ্যাভোকাডো মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার স্থানীয় উদ্ভিদ। যেটি লরেসি পরিবারের একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। এ ফলে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন এ, সি, ই ও কে। আছে প্রচুর পটাশিয়াম, যা কলার চেয়ে ৬০ শতাংশ বেশি। ১৮ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড, ৩৪ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট। উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভালো কোলেস্টেরল, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। অর্থাৎ শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করতে সহায়তা করে। এটি শিশুর জন্য একটি উৎকৃষ্ট খাবার। শিশুর পুষ্টি শোষণে সহায়তা করে। যকৃৎকে সুরক্ষা দেয়। জন্ডিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। অ্যাভোকাডো গর্ভপাত রোধ এবং স্বাভাবিক প্রসবে সহায়ক হয়। মানসিক চাপ, হতাশা দূরীকরণ, ক্ষুধা বৃদ্ধি, সুনিদ্রা নিশ্চিত এবং দেহের ক্ষতিকর দ্রব্যাদি প্রস্রাব ও মল আকারে বের হয়ে দেহকে সুস্থ রাখতে ফলটি গুরুত্ব বহন করে।
অ্যাভোকাডো চাষী হারুন-অর-রশিদ জানান, দামি ফল চাষের আগ্রহ থেকে অ্যাভোকাডো চাষ শুরু করেন তিনি। ২০১৭ সালে নিজের দুই বিঘা জমিতে ১০০ চারা গাছ রোপণ করেন। এর মধ্যে ৬০টি গাছ বেঁচে আছে। দুই বছর পর থেকেই ৬০টি গাছেই ফলন আসতে শুরু করে। প্রথম বছরেই তিনি ২০ লাখ টাকার অ্যাভোকাডো বিক্রি করেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম আর চাহিদা ও দাম ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে তিনি শুরু করেন অ্যাভোকাডোর চাষ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্ঠী চন্দ্র রায় বলেন, ‘জেলায় তিন হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে অ্যাভোকাডো। ডিসেম্বরে ফুল আসে। বছরে ফলন হয় একবার। হারভেস্ট করা হয় জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত। গাছের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফলনও বেশি হয়। এ ফল বাগানে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মতো অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ লাগে না।










