বৃষ্টি হলে বরিশাল নগরীর অধিকাংশ সড়কে জমে যায় হাঁটুপানি। আর এ পানির কারণে সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্তের। এছাড়া নগরীর অলিগলিও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে কোনো কোনো সড়কে ইট-পাথর উঠে গেছে। বর্ষায় এসব সড়কে পানি জমে কাদামাটিতে একাকার হয়ে পড়েছে। সড়কের এ অবস্থায় নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কিছুটা ভালো থাকলেও বৃষ্টি হলেই এসব সড়কেও ঢুকে পড়ে পানি। এদিকে
বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে শিগগিরই হবে এসব সড়ক সংস্কারের কাজ।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল নগরীর আওতাধীন মোট ৫৯৩ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে পাকা সড়কের আয়তন ২৬৭ কিলোমিটার। বাকি সড়ক কাঁচা। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সংস্কার করা হয়েছে। কিছু কিছু অলিগলির সড়ক রয়েছে ভাঙা। সেটা পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধান গবেষণা সড়ক, জিয়ানগর সড়ক, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা ভাসানী সড়ক থেকে ফকিরবাড়ি স্কুলের সংযোগ সড়ক, ইসলাম পাড়া সড়ক, নিউ সদরঘাট সড়ক, মুসলিম গোরস্থান রোড, দরগাবাড়ি রোড, কাশিপুর বাজারসংলগ্ন সড়ক, ইসাকাঠি সড়ক, ভাটিখানা সড়ক, সাগরদী ব্রাঞ্জ রোড, কাশিপুর কলোনি সড়ক, কাশিপুর চৌমাথা সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক খান্দাখন্দে ভরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন সড়কের এ দুরবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত তাদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বেশি মাত্রায় ভোগান্তিতে পড়ছে। আবার সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, বরিশাল নগরীর উত্তর কাউনিয়া এলাকার বিসিক সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে খানাখন্দে ভরা। সড়ক ভাঙাচোরা হওয়ার কারণে ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটায় অনেকে হেঁটেই পার হন এ সড়ক। কেউ কেউ এ সড়ককে খানাখন্দে ভরা নয়, বলছেন ডোবায় ভরা সড়ক।
এলাকাবাসীর দাবি, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়রের দায়িত্ব নেয়ার পর এ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ হয়নি। স্থানীয়দের পাশাপাশি বিসিক শিল্প এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহন চালকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলে এ সড়কে দুর্ঘটনার শঙ্কা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, বরিশাল নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা কাউনিয়া এলাকার শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সড়ক দিয়েই যায়। কোনো যানবাহনের স্পিড প্রতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি থাকে না। মোটরসাইকেল চালাতে হয় সাপের মতো এঁকেবেঁকে। আর থ্রি হুইলারগুলোকে চলতে হয় বেশ সতর্কভাবে, কেননা এসব যানবাহন যেকোনো সময় উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে এ সড়কে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেক ঘটেছে। আহতও হয়েছে অনেক শিক্ষার্থী।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আশরাফুল ইসলাম সুমন বলেন, বিসিক সড়কের একটি ভবনে আমি ভাড়া থাকি। প্রতিদিন যে কীভাবে এ সড়ক অতিক্রম করতে হয় সেটা আমি ভালো জানি। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি কয়েক বছর ধরেই এভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দিন যত যায় ততই বাড়তে থাকে ভাঙার পরিমাণ। এ সড়কে চলাচল করলে কিছুদূর পর পর ছোট ছোট ডোবা চোখে পড়ে। আর বৃষ্টির সময় সেই ডোবায় পানি জমে থাকে। কয়েক সপ্তাহ আগে দুপুরে বাসায় খাবার খেতে আসার সময় দেখি একটি ইজিবাইক শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়কের একটি বড় ভাঙা অংশে জমে থাকা পানিতে উল্টে পড়েছে। পরে জানতে পারি ওই ভাঙা অংশটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। শিশু শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, ব্যথাও পায় কয়েকজন শিশু শিক্ষার্থী। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কার করা হোক।
শহীদ আরজু মনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলাউদ্দিন বলেন, বরিশাল নগরীর অন্য সড়কগুলো সংস্কার হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক কেন সংস্কার করা হচ্ছে না। এ সড়ক থেকেই বিসিক শিল্পনগরীতে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। দশ বছরেও এ সড়কের কোনো সংস্কারকাজ করা হয়নি। আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা চাই না। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সড়কের সংস্কার। কোনো আশ্বাস শুনতে চাই না। কারো সঙ্গে ব্যক্তি আক্রোশে যদি এ সড়ক সংস্কারের কাজ বন্ধ থাকে তা হবে নগরবাসীর জন্য দুঃখজনক। আমাদের আহ্বান জনস্বার্থে বিসিক সড়ক সংস্কার করে দেয়ার।
নগরীর ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমির হোসেন বিশ্বাস বলেন, উত্তর কাউনিয়া এলাকার বিসিক সড়ক সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ হয়নি। বরাদ্দ পেলে অতিদ্রুত কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি পাড়া মহল্লার সড়কগুলোও করা হবে।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুখ হোসেন বলেন, বরিশাল নগরীর সব সড়কই সংস্কার করা হবে। আমাদের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বিসিক সড়কসহ নগরীর অলিগলির সড়কগুলো সংস্কারের কাজও করা হবে।










