ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করতে ফেরানোর বিষয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কিছু হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা জানান।

থাইল্যান্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হয়। সেখানে শেখ হাসিনাকে ফেরত নিয়ে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কোনো কিছু হয়নি।

বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে কিনা? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন শেষ করে খুব শিগগিরই নির্বাচন দেয়াই আমাদের অঙ্গীকার। তবে টেবিল টকে আলোচনায় তারা জানতেই পারেন। এটা স্বাভাবিক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তৌহিদ হোসেন বলেন, থাইল্যান্ডের বৈঠকে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনযোগ্য, এটা মিয়ানমার ক্লিয়ার বলেছে। বাকি তালিকা তারা রিভিউ করছে। তবে বাস্তব অবস্থা আপনাদের বুঝতে হবে। এই মুহূর্তে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা সম্ভব নয়।

প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প নিয়ে চীনা কোম্পানিগুলোকে স্বাগত জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টার ব্যাংকক সফরে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানেও আলোচনার টেবিলে ছিল তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু। এক্ষেত্রে কোনটার অগ্রগতি বেশি, সে বিষয়ে প্রশ্ন রাখা হয় উপদেষ্টার কাছে।

জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘অগ্রগতি সময়সাক্ষেপ বিষয়। আমরা ঝট করে কোনোকিছু প্রত্যাশা করছি না, যেমন কালকে কেউ এসে তিস্তার সমস্যার সমাধান করে দেবে। আমাদের একটা আমব্রেলা এমওইউ আছে নদীর পানি নিয়ে। এ ব্যাপারে আমরা ওপেন আছি। ভারতের সঙ্গেও সহযোগিতা সম্ভব, চীনের সঙ্গেও সহযোগিতা সম্ভব। কোনোটাতে কোনো বাধা নেই।’ আমরা দেখব যে, কোনদিকে কোন প্রকল্পে সহায়তা নিলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। সুবিধা অনুযায়ী পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের কার্যকলাপ করবে বলে উল্লেখ করেন তৌহিদ হোসেন।

ভারতের ভিসা বন্ধ রয়েছে, এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভিসা দেয়াটা তাদের বিষয়। আমরাও সাময়িকভাবে সেই দেশে ভিসা বন্ধ করেছিলাম। তবে কোনো দেশের ভিসা বন্ধ হলে শূন্যতা থাকে না। মানুষ অন্য দেশে সমাধান খুঁজে নেয়।

ইতালির ভিসা পেতে বাংলাদেশীরা বিক্ষোভ করছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, ইতালির ভিসা নিয়ে দেশটির সঙ্গে অব্যাহতভাবে আলোচনা করছি। তবে ভিসা পেতে যেসব ডকুমেন্ট দেয়া হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ইতালির ভিসার জন্য অনেক অবৈধ কাগজপত্র দেয়া হয়। তারা (ইতালি) দেখছে, আসলেই সেই কাগজপত্র ঠিক আছে কিনা। অনেক লোকজনের কাগজপত্র জেনুইন আছে, তারাও এখন এ অবস্থায় ভিসার জন্য ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন।