বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) গবেষণায় বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণরূপে ব্যয় করতে পারছে না দেশের অন্যতম প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। ইউজিসির কাছে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয়টির সর্বশেষ পাঁচ অর্থবছরের ব্যয় বিবরণী থেকে দেখা গেছে, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে চার অর্থবছরেই গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৪০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অব্যয়িত ছিল। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরেও প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থ বণ্টনই করা সম্ভব হয়নি আর প্রকৃত অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ আরো বেশি। এ অর্থবছরের চূড়ান্ত ব্যয় বিবরণী এখনো ইউজিসির কাছে পৌঁছেনি।
ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে শুধু ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা বরাদ্দের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করেছিল। এছাড়া বাকি চার অর্থবছরেই ৪০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ অব্যয়িত ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে মোট বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ব্যয় করেছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং অব্যয়িত ছিল প্রায় ৭০ দশমিক ৩৮ শতাংশ অর্থ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং প্রকৃত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অব্যয়িত ছিল ৫৭ দশমিক ৫২ শতাংশ অর্থ। ২০২০-২১ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা এবং প্রকৃত ব্যয় ছিল ২ কোটি ৭২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। অব্যয়িত ছিল ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি টাকা এবং প্রকৃত ব্যয় ছিল ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। অব্যয়িত ছিল ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ অর্থ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন গবেষণা প্রজেক্টের বিপরীতে মোট ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। প্রথম কিস্তিতে সবাইকে ৬০ শতাংশ অর্থ প্র দান করা হলেও আর্থিক নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ না হওয়ায় বেশ কয়েকজনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কিস্তির ৪০ শতাংশ অর্থছাড় করা হয়নি।
ইউজিসি বলছে, শিক্ষকদের গবেষণায় আগ্রহ না থাকাই অর্থ ব্যয় করতে না পারার প্রধান কারণ। তবে শিক্ষকদের দাবি, ইউজিসির আর্থিক নীতিমালা গবেষকবান্ধব না হওয়াতেই অনেকে গবেষণায় আগ্রহী হলেও গবেষণা ফান্ড থেকে বরাদ্দ নিচ্ছেন না।
বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন অনুষদের এক সাবেক ডিন বলেন, ‘ইউজিসির নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ব্যয়ের প্রমাণস্বরূপ ভাউচার প্রদান করতে হবে। কিন্তু গবেষণার ক্ষেত্রে এমন অনেক ব্যয় থাকে যার ভাউচার দেয়া সম্ভব হয় না। যেমন তথ্য সংগ্রহে যাতায়াত বাবদ ব্যয়। এক্ষেত্রে বেশ ভালো অংকের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু রিকশা ভাড়া বা সিএনজি ভাড়ার তো ভাউচার হয় না। এছাড়া পিআর রেটেড জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশের বিষয় রয়েছে। কিন্তু এসব জার্নালে মোটা অংকের সাবমিশন ফি দিতে হয়। এসব ফিও অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ নেই। আবার এসব ব্যয়ের কাগজপত্র রক্ষণাবেক্ষণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। সব মিলিয়ে এই ফান্ড থেকে অর্থ গ্রহণ খুবই জটিল প্রক্রিয়া।’
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের বক্তব্যের জন্য ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।










