সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার মোহাম্মদ এনামুল হকের দেশত্যাগে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত।

সোমবার (৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক ফারজানা ইয়াসমিনের আবেদনের পর আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে গত ৪ জুলাই এনামুলের ৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪ হাজার ৫০০ টাকার জমি ও ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত।

প্রায় ১০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার নামে গত বছরের ৩০ জুলাই মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম মামলাটি দায়ের করেন।

মোহাম্মদ এনামুল হক বর্তমানে সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার।

এজাহারে বলা হয়েছে, এনামুল আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৯এএএএএ ধারায় মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের সারা সন্ধানী লাইফ টাওয়ারের দুটি সম্পূর্ণ ফ্লোরের (প্রতিটি ৫ হাজার ৫ বর্গফুট) বাণিজ্যিক স্পেস ২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকায় কেনার ঘোষণা দেন। উল্লিখিত ভবনে তার কেনা ১ হাজার ১৯ বর্গমিটার বাণিজ্যিক স্পেসের বিপরীতে প্রতি বর্গমিটার ১ হাজার ৩০০ টাকা হিসাবে পরিশোধযোগ্য আয়কর ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৮২ টাকা এবং হারাহারি ১ দশমিক ৭৮৫ কাঠা বা ১১৯.৪০ বর্গমিটার জমির বিপরীতে প্রতি বর্গমিটার ৫ হাজার টাকা হিসাবে পরিশোধযোগ্য আয়কর ৫ লাখ ৯৬ হাজার ৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ বাণিজ্যিক স্পেসের বিপরীতে পরিশোধযোগ্য কর ছিল ১৯ লাখ ২১ হাজার ৮৭৭ টাকা। তিনি আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ১৯এএএএএ ধারায় আয়কর পরিশোধ করেন ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫০ টাকা। আয়কর আইনের উল্লিখিত ধারায় সুবিধা নিতে হলে আরো যে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৮২৯ টাকা পরিশোধ করা দরকার ছিল, তা তিনি করেননি। এ কারণে আইনের সুবিধা তিনি পেতে পারেন না এবং তার প্রদর্শিত ২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১০০ টাকার আয়ের উৎস গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়নি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, মৌজা দর অনুযায়ী সম্পদের এসব মূল্য হিসাব করা হয়েছে। প্রকৃত লেনদেন আরো বেশি।

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে রাজধানীর গুলশানের জোয়ার সাহারায় ৬১ লাখ টাকায় তিন কাঠা করে ছয় কাঠার দুটি প্লট কেনেন। প্লট দুটিতে নয় তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৮ সালে খিলক্ষেতে ৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকায় ৩৩ শতাংশ জমি কেনেন।

২০১৩ সালে কাকরাইলের আইরিশ নূরজাহান ভবনে কমন স্পেসসহ ১ হাজার ১৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন। যার মূল্য ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা। ২০১৪ সালে একই ভবনে কার পার্কিং স্পেসসহ ১ হাজার ৮৩৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন। এর মূল্য ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

২০১৫ সালে কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টার নামের ভবনে কার পার্কিংসহ ১ হাজার ৯০০ বর্গফুট ও ৩ হাজার ৮০০ বর্গফুটের দুটি ফ্ল্যাট কেনেন। এগুলোর মূল্য ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে হেবা দলিলে গাজীপুরে ৬২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় পাঁচ কাঠা জমির মালিক হন।

২০১৭ সালে মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকায় তিনটি বাণিজ্যিক ভবনে কার পার্কিংসহ চার হাজার বর্গফুটের তিনটি স্পেস কেনেন। প্রতিটির মূল্য ৭১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা করে। ২০১৯ সালে গুলশানে ৭২ লাখ টাকার ২ হাজার ৪২৮ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কেনেন।

২০২০ সালে মোহাম্মদপুর হাউজিং এস্টেটে ১০ হাজার ৯৬৫ বর্গফুটের স্পেস কেনেন। যার মূল্য ২ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ২০২০ সালে বাড্ডায় চার কাঠা নাল জমি কেনেন। যার মূল্য ১৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।